করোনা আতঙ্কে ওসমানী হাসপাতালে কমছে রোগী

4

সবুজ সিলেট ডেস্ক
করোনা ভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে বিশ্ব, কাঁপছে দেশ। করোনা ভাইরাসে দেশে ইতোমধ্যে ৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে আর সব মিলিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন সাতজন। তবে দেশের মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক রয়েছে। সেই আতঙ্কে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সাধারণ রোগ-বালাই নিয়ে ভিড় করছেন না ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বার কিংবা হাসপাতালে। সব মিলিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহি:বিভাগ ও ভর্তি রোগীর সংখ্যা কমেছে। আগের তুলনায় ভর্তি রোগী কমেছে তিন ভাগের দুই ভাগ। আর বহির্বিভাগে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন মাত্র ৫ ভাগের একভাগ।
অন্যদিকে পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) না থাকায় ঝুঁকিতে আছেন ডাক্তারও। সেজন্য জ্বর, সর্দি, কাশি হলেও তাকে হাসপাতালে না এসে ঘরে বসে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তাররা। তবে অনেকেই অভিযোগ করছেন, বর্তমান সময়ে অনেকেই জ্বর, সর্দি নিয়ে হাসপাতালে গেলেও চিকিৎসা মেলে না। উল্টো সিলেট এমএজি ওমমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা রোগীদের শহীদ শামছুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। তবে এখানেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ মেলেনা বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল বুধবার সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, এখানে নেই চিরচেনা দীর্ঘ লাইন। কিছু সময় পর পর একজন একজন হয়েই আসছেন রোগী। কেউ না দাঁড়িয়ে নিজ নিজ চিকিৎসা শেষ করে দ্রæতই হাসপাতাল ত্যাগ করছেন। কেবল তাই না, ভর্তি রোগীর সংখ্যাও খুব একটা নেই।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাধারণত প্রতিদিন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ হাজারের অধিক হলেও এখন এ সংখ্যা ৩ ভাগের এক ভাগ মাত্র। আর ইমার্জেন্সি বহির্বিভাগে ৩ হাজারের অধিক রোগী থাকলেও এখন এ সংখ্যা ৫ ভাগের এক ভাগ মাত্র। স্বাভাবিক সময়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ হাজারের অধিক থাকলেও আজ বুধবার সকল বিভাগে মিলে মাত্র ৬৮৯ জন রোগী ভর্তি আছেন। আর বহির্বিভাগের হিসেব অনুযায়ী ইমার্জেন্সি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন মাত্র ৫৫০ জন। কিন্তু অন্য সাধারণ দিনে ৩ হাজারের অধিক বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতেন।
এদিকে রোগী থেকে সংক্রমণের ভয়ে দেশের অন্যান্য জায়গার মতো সিলেটেও বন্ধ হয়ে গেছে বেশিরভাগ ডাক্তারদের চেম্বার। আর যারা আছে তারাও চেম্বার বন্ধ করার পথে। এমন বাস্তবতায় সাধারণ রোগ-বালাই নিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষ। তবে প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট না থাকায় চেম্বার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
তবে করোনা সংক্রমণের এমন দুঃসময়ে ডাক্তারদেরকে মানুষের পাশে থাকার প্রয়োজন; এমনটি স্বীকার করলেও অনেকের চেম্বার বন্ধের কিছু যৌক্তিকতাও তুলে ধরলেন চিকিৎসকরা। বিষয়টি নিয়ে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মুজিবুল হক বলেন, এখনো পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) না থাকায় অনেক ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে। সরকার থেকে এখন পিপিই এর কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। এমনকি বাজারেও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে আমরাই। কারণ কোন করোনা রোগী না বুঝে সরাসরি আমাদের কাছে চলে আসলে আমরা আক্রান্ত হয়ে যাবো। সুতরাং ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে আমরা চেম্বার বন্ধ করে দিচ্ছি।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, করোনার আতঙ্কের কারণে রোগী কম হচ্ছেন। তাছাড়া সাধারণ চিকিৎসার ক্ষেত্রে হাসপাতালে না এসে ঘরে বসে ফোনে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয়ায় মানুষ সচেতন হচ্ছেন। তাই রোগী কমছে। তা না হলে লোকসমাগম হয়ে যেত। এতে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি থাকত বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে কেউ প্রস্তুত ছিলো না। তাই হঠাৎ করে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে পিপিই আসতে শুরু করেছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, দেশে করোনা ভাইরাসে আরও একজন মারা গেছেন। ফলে দেশে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। অন্যদিকে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হননি, তাই আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯-ই আছে। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও দুজন। সবমিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন সাতজন।