মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

4

স্টাফ রিপোর্টার
‘এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উৎখাত করা এবং চ‚ড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক।’ একাত্তরের ২৫ মার্চের কালো রাতের শেষ প্রহরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ ঘোষণাকে বাস্তবে রূপ দিতে গর্জে ওঠে মুক্তিপাগল বাঙালির হাতিয়ার। টানা নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল স্বাধীনতাকামী ৩০ লাখ মানুষ। পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ-নির্যাতনের নাগপাশ ভেঙে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার রাঙা সূর্য। মুক্তিযুদ্ধ সূচনার গৌরবের দিন মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের বুকে স্বাধীন অস্তিত্ব ঘোষণা করেছিল বীর বাঙালি। সূচনা করেছিল সশস্ত্র সংগ্রামের।
জাতি আজ উৎসব উদ্?যাপনের পাশাপাশি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করবে ৪৯তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। স্মরণ করবে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের। স্মরণ করবে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে-যিনি একটি পরাধীন জাতিকে মুক্তির মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন, করেছিলেন ঐক্যবদ্ধ; যার ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিসংগ্রামে।
একাত্তরের এদিন বেলাল মোহাম্মদ, আবুলকাসেমসহ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের কয়েকজন কর্মকর্তা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নানের মাধ্যমে প্রথম শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাটি প্রচার করেন। পরে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে থেকে বঙ্গবন্ধুর হয়ে সেনাবাহিনীর বাঙালি অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এ ঘোষণার মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাঙালি শুরু করে স্বাধীনতার সংগ্রাম। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার হত্যা, ধ্বংস ও পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে ৯ মাসের মরণপণ লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের।
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।