করোনাভাইরাস: জর্ডানে খাদ্য সঙ্কটে ৩০ হাজার বাংলাদেশি

7

 

সবুজ সিলেট ডেস্ক

জর্ডানে দেড় লাখের বেশি বাংলাদেশি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি দেশটিতে অবৈধভাবে বসবাস করছেন। এসব প্রবাসীরা মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন। এমতাবস্থায় দেশটিতে কাজ না থাকায় একবেলা খাবারও জুটছে না বাংলাদেশিদের।

জানা গেছে, রাজধানী আম্মান, আকাবা, আলতাজুমা, আলদুলাল, ইরবিদ ও জারকা শহরে বসবাস বাংলাদেশিদের। যারা বৈধভাবে জর্ডানে আছেন, তারাও নানা সমস্যা রয়েছে। খেতে পারলেও উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অন্যান্য সুবিধা পাচ্ছে না।

করোনার প্রাদুর্ভাবে জার্ডানে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন পাঁচজন। আক্রান্ত ৩২৩ জন, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৩ জন। যে কারণে লকডাউন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন পার হচ্ছে সেখানে। অবৈধ যে বাংলাদেশিরা দেশটিতে বসবাস করেন, মূলত সমস্যা পড়েছেন এ কারণেই। অল্প কাজ করতে পারলেও দেশে পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতে পারছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রবাসী অভিযোগ করে বলেন, আমরা বিভিন্ন এলাকায় না খেয়ে দিন পার করছি কিন্তু দূতাবাস কোনো খোঁজ-খবরই নিচ্ছে না। এখন পর্যন্ত বিপদে পড়া প্রবাসীদের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি আম্মানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। আমাদের ত্রাণ সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে জর্ডানে নবনিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তাকে পাওয়া যায়নি। আর লকডাউনের কারণে দূতাবাসে গিয়েও কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মুঠোফোনে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে আলাপকালে তিনি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহানের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেন দূতালয় প্রধান মুহাম্মদ বশির। ৩০ হাজার বাংলাদেশি না খেয়ে দিনপার করছে, এ কথা জানিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি বলেছেন, ‘চেষ্টা চলছে। আমরা পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেব’।

মাত্র ৩ হাজার প্রবাসী বিপদে রয়েছেন বলে প্রথমে দাবি করেন দূতালয় প্রধান মুহাম্মদ বশির। কিন্তু তাকে ৩০ হাজার বাংলাদেশি বিপদে আছেন বলা হলে, তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘এই ৩০ হাজার প্রবাসীকে দূতাবাস এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনই ত্রাণ সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে যেদিন আসবে (ত্রাণ), সেদিন জানানো হবে’।

যে সকল প্রবাসী বিপদে আছেন, তাদের তালিকা করেছে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির কল্যাণ সমিতি। তবে বিপদে থাকা প্রবাসীদের অভিযোগ, তালিকা হলেও এতে নানা ধরনের অসঙ্গতি আছে। এ তথ্য জেনে তালিকার কপি দেখতে চাইলেও দেখাতে পারেননি প্রবাসী বাংলাদেশি কল্যাণ সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বশির ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বিপ্লব। বিয়ষটি নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও কোনো উত্তর দেননি তারা।

বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মনিরুজ্জামানকে ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘ত্রাণ এলে জানানো হবে’।