‘ত্রাণ না দিয়ে ছবি উঠিয়ে তামাশা করলেন এমপি রতন সাব’

12

 

সবুজ সিলেট ডেস্ক

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ঘরে থাকার যুদ্ধে অসহায়, দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের আয়োজন করে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন।

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘাটে সাংসদের নিজস্ব অর্থায়নে এ ত্রাণ কার্যক্রম বিতরণ করার কথা ছিল।

এজন্য উপজেলায় অসহায়, দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষ ভিড় জমান। তবে এমপি রতন এসে কিছু ত্রাণ বিতরণ করার পরই চলে যান। এরপর শুরু হয় ত্রাণ নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধের সকল নিয়মনীতি তোয়াক্কা করে জনসমাগম করা হয়। এসময় খাদ্য সামগ্রী নিতে আসা কেউই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলেন নি। তবে এতোসব করার পরও উপজেলা হতদ্ররিদ্র প্রায় তিন শতাধিক মানুষ খাদ্য সামগ্রী না পেয়ে ফিরে যান।

এসময় ত্রাণ নিতে আসা একজন বৃদ্ধ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ত্রাণ না দিয়ে আমরারে নিয়া ছবি উঠাইয়া তামাশা করা হয়েছেন এমপি রতন সাব। এই গরমে অনেকক্ষণ ধরে রোদে দাঁড়িয়ে এখন খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। আমরারে ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রাণ দিলেই তো হতো। এভাবে তামাশা করার দরকার ছিল না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, এমপির ত্রাণ বিতরণের খবর পেয়ে দুপুর থেকেই দিনমজুর, অসহায় বৃদ্ধ, মহিলা ও শিশুরা বাদাঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কয়েকটি লাইনে সারি বেধে খরা রোদ মাথায় নিয়ে ত্রাণের অপেক্ষা করছিল। ঘন্টাব্যাপী অপেক্ষা করার পর্ব শেষে সাংসদ এসে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন।

তবে মাত্র ২-৩ জনের হাতে ত্রাণ দিয়ে সাংসদ চলে যাবার পরই শুরু হয় ত্রাণ নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড। লাইন থেকে দুস্থ লোকজন বিচ্ছিন্ন হয়ে ত্রাণের জন্য এলোপাথাড়ি দৌড়াদৌড়ি শুরে করে দেয়। কয়েকজন পুলিশের উপস্থিতিতে এসব দুস্থ অসহায় লোকদেরকে সামলাতে বেগ পেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ত্রাণ না পেয়ে প্রায় ৩ শতাধিক লোকজন শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতে দেখা গিয়েছে।

এদিকে পরিস্থিতি বেসামাল দেখে সাংসদের সাথে থাকা স্থানীয় আ’লীগ নেতৃবৃন্দদেরকে দ্রুত স্কুল মাঠ ত্যাগ করতে দেখা গিয়েছে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের সাথে মুঠোফোনে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।