ফেসবুকে অপপ্রচার, গোলাপগঞ্জে জামায়াতকর্মী আটক

508

স্টাফ রিপোর্টার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগে সিলেটের গোলাপগঞ্জ থেকে এক যুবককে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার টিম। আটক যুবকের নাম ইফতেখার আহমদ জুমন। গতকাল শনিবার (১৬ মে) বিকেলে উপজেলার আমনিয়া বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনের নিদের্শনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার বিকাল ৪টায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) লুৎফর রহমানের তত্ত্বাবধানে এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (দক্ষিণ জোন)-এর অফিসার ইনচার্জ আশীষ কুমার মৈত্রের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি সাইবার টিম গোলাপগঞ্জ মডেল থানার আমনিয়া বাজারে অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে ইফতেখার আহমদ জুমন (২৫) নামের এক জামায়াতকর্মীকে আটক করা হয়। সে গোলাপগঞ্জ থানার ইসলামটুল গ্রামের হোসেন আহমদ ছয়ফুলের ছেলে। আমানিয়া বাজারে অবস্থিত জুমন আহমদের মালিকানাধীন হোসেন ট্রেডার্স নামীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে সে দীর্ঘদিন যাবৎ যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত আসামি দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তির লক্ষ্যে জনমনে বিভ্রান্তি ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সরকারবিরোধী বিভিন্ন প্রকার অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল। জেলা গোয়েন্দা শাখার সাইবার টিমের সদস্যরা দীর্ঘদিন থেকে তার উপর নজরদারি করে আসছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গ্রেফতার পরবর্তী সময়ে তার মোবাইল ফোন পর্যবেক্ষণ করে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের হোয়াটস্ অ্যাপ-এ প্রেরিত বিভিন্ন বার্তা পাওয়া যায়। যাতে যুদ্ধাপরাধী দেলওয়ার হোসাইন সাইদীর মুক্তির বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট প্রদানপূর্বক মানুষের মধ্যে আবেগ তৈরি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নির্দেশনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই কল্লোল গোস্বামী বাদি হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে কোনো গুজব কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ যেন সমাজে অস্থিরতা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম কাজ করে যারা সন্দেহভাজনদের ব্যবহ্রত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সার্বক্ষনিক নজরদারি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোলাপগঞ্জ থেকে জুমন আহমদ নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

লুৎফর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ভবিষ্যতে কেউ যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে সেজন্য জেলা পুলিশের এরকম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।