সিলেট বিভাগে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদ ৯০টি, ৬৯টি পদই শুন্যঃ চরম ঝুঁকির মধ্যে স্বাস্থ্যখাত

26

স্টাফ রিপোর্টার::
পর্ষাপ্ত সংখ্যক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না থাকায় সিলেট বিভাগে টিকাদান কার্যক্রমের (ইপিআই) সাথে জড়িত হেলথ টেকনোলজিস্টদের দিয়ে করোনা শনাক্তের পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করানো হচ্ছে। কিন্তু তাদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ।সিলেট বিভাগের চারটি জেলায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদ আছে ৯০টি। এর মধ্যে বর্তমানে ৬৯টি পদই শ‚ন্য! চার জেলায় মাত্র ২১ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কাজ করছেন। নির্ধারিত পদের এক-তৃতীয়াংশ মেডিকেল টেকনোলজিস্টও নেই সিলেটে এতে সিলেট বিভাগে স্বাস্থ্যকাতে চরমভাবে হতাশ বিরাজমান।
বর্তমানে করোনার নমুনা সংগ্রহ করতে অনেক ব্যাগপেতে হচ্চে। চরম ঝুঁকির মধ্যে সিলেটের এই স্বাস্থ্য খাত।
বর্তমানে করোনাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি সামনে আসার পর মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সংকটের বিষয়টিও বেরিয়ে পড়ে।
সিলেটজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ার সাথে সাথে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহের হারও বাড়তে থাকে। নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রশিক্ষিথ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন। কিন্তু পর্যাপ্তসংখ্যক মেডিকেট টেকনোলজিস্ট না থাকায় বর্তমানে শিশুদের টিকাদান কর্মস‚চির সাথে জড়িত হেলথ টেকনোলজিস্টদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় স‚ত্রে জানা গেছে, সিলেটে ৬ জন মৌলভীবাজারে সর্বোচ্চ ৯ জন, হবিগঞ্জে ৩ জন ও সুনামগঞ্জে ৩ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আছেন। অথচ, শুধুমাত্র সিলেট জেলাতেই ৩০ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পদ আছে। বাকি তিন জেলায় প্রয়োজন আরো ৬০ জন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব হেলথ টেকনোলজিস্ট করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির কিংবা আক্রান্ত হয়েছেন এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহের কাজে দক্ষ নয়। এ কাজে তাদের কোনো প‚র্ব প্রশিক্ষণও নেই। ফলে নমুনা যথাযথভাবে সংগ্রহ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের এক কর্মকর্তাই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘করোনা শনাক্তের জন্য বিশেষভাবে নমুনা সংগ্রহ করতে হয়। নমুনা সংগ্রহে ভুল হলে কিংবা সংগ্রহের পর নমুনা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে সে নমুনা পরীক্ষায় ফলাফল ভুল বা বিভ্রান্তিকর আসতে পারে। হেলথ টেকনোলজিস্টরা কোনোদিন এ ধরনের কাজ করেনি। অথচ এখন তাদেরকে দিয়ে এই স্পর্শকাতর কাজ করানো হচ্ছে।’
নমুনা সংগ্রহের কাজ হেলথ টেকনোলজিস্টদের দিয়ে করানোর জন্য তাদেরকে দুই দিন অনলাইনে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ‘সিলেট বিভাগে ৯০টি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদের বিপরীতে মাত্র ২১ জন কর্মরত আছেন। বাকি পদগুলো শ‚ন্য।’এই কর্মকর্তা জানান, উচ্চ আদালতে একটি রিটের কারণে দীর্ঘদিন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে নিয়োগ বন্ধ ছিল। স¤প্রতি সেই রিটের সমাধান হয়েছে। এখন এ পদে লোক নিয়োগ শুরু হবে। সিলেটের চাহিদাও স্বাস্থ্য অধিদফতরকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘করোনা শনাক্তের নমুনা সংগ্রহের জন্য বর্তমানে টিকাদানের হেলথ টেকনোলজিস্টদের কাজে লাগানো হচ্ছে।