সিলেটে শ্রমিক ফান্ড থেকে ঈদ সারগ্রী চাওয়ায় শ্রমিকদের উপর অপর সন্ত্রাসী হামলা

37


স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটে পরিবহন শ্রমিকদের ফান্ড থেকে ঈদ সামগ্রীর টাকা চাওয়ায় শ্রমিকদের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। জেলার শ্রমিক নেতাদের তথ্যমতে সাধারণ পরিবহন শ্রমিকরা জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিকের কাছে ঈদের সেমাই রুটির টাকা চাওয়ায় তার তার ছেলের নির্দেশে নিজেদের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে শ্রমিকদের উপর হামলা চালানো হয়। আর এ ঘটনায় দুটি পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিক নেতারা জানান,জেলার সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ফান্ডে ৮৫ থেকে ৯০ লাখ টাকা রয়েছে।

এসব টাকা শ্রমিকদের ঘাম ঝরানোর। প্রায় কোটি টাকা ফান্ডে থাকা সত্তে¡ও সাধারণ শ্রমিকরা কোন ধরণের সহায়তা পাচ্ছেন না। শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো টাকা শ্রমিকদের কল্যানে সহযোগীতা না করে সেলিম আহমদ ফলিক ব্যবসা করছেন। এই কথাগুলো বলেন, জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম।

তিনি বলেন যেসব ত্রান প্রথমে শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছি। সেগুলো জেলার উপকমিটির ফান্ড থেকে। শ্রমিক ফেডারেশনের মূল ফান্ড থেকে শ্রমিকদের কোন ধরণের সহযোগীতা করা হয়নি। নাম প্রকাশ না করা শর্তে অনেক সাধারণ পরিবহন শ্রমিকরা এমন অভিযোগ করেন।
বৈশ্বিক করোনায় পুরো পৃথিবী স্তব্ধ। স্তব্ধ সব কর্মযজ্ঞ। এ অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরা। যে মানুষেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দিনের পর দিন পরিশ্রম করে সংসারের চাকা ঘোরাতেন তারাই আজ সবার করুণার পাত্র হয়ে গেছেন। ঘরবন্দি থেকে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শ্রমিক সংগঠন থেকে পাচ্ছেন না কোন ধরণের সহযোগীতা।

শনিবার (২৩ মে) বিকালে ঈদ সামগ্রী চাওয়ায় জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ও সিলেট-ঢাকা মিতালী বাস সার্ভিসের সঙ্গে আন্তঃজেলা বাস শ্রমিকদের মধ্যে এ বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় শ্রমিক ও ফলিক বাহিনীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, ইউনিয়নের তহবিলে বিপুল পরিমাণ টাকা থাকার পরেও এই সংকটময় সময়ে তারা টাকা পাচ্ছেন না। এর জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কোনও সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ’

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক বলেন, ‘শ্রমিকরা যেসব অভিযোগ করেছেন, তা সত্য নয়। সংগঠন থেকে তাদের যে টাকা দেওয়ার কথা তা মাস শেষে হিসাব করেই দেওয়া হয়। আমাদের যেসব শ্রমিক মারা গেছেন তাদের পরিবারকে ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আর অবশিষ্ট টাকা আমাদের সংগঠনের তহবিলে রয়েছে। শ্রমিকরা সেই টাকা নেওয়ার দাবি করেন। আমরা তা দিতে না চাইলে তারা বিক্ষোভ করেন। এর আগে শ্রমিক নেতা সেলিম আহমদ ফলিক সবুজ সিলেটকে বলেছিলেন শ্রমিকদের ফান্ডে থাকা সকল টাকা শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছে। ফান্ডে এখন আর কোন টাকা নেই।