দেশের বিভিন্ন স্থানে আগাম ঈদ উদযাপন

8

সবুজ সিলেট ডেস্ক
সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় আগাম ঈদ পালিত হচ্ছে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল থেকে প্রতিবারের ন্যায় রবিবারও এসব এলাকার মানুষ ঈদ উদযাপন করছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ জামাত, জামাত শেষে কোলাকুলি ও হাত মেলাতে মানা থাকলেও অনেক জায়গায় তা মানা হয়নি। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কুশল বিনিময় করেন। ঢাকাটাইমসে প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।

বিরামপুর (দিনাজপুর): সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দুটি গ্রামের মানুষ ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। রবিবার সকালে দুই গ্রামের মানুষ মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

সকাল পৌনে আটটায় উপজেলার বিনাইল ইউনিয়নের আয়ড়া বাজার জামে মসজিদে মাওলানা ইলিয়াস আলী এবং সকাল আটটায় জোতবানী ইউনিয়নের খয়েরবাড়ি-মির্জাপুর জামে মসজিদে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন কাজী দুটি জামাতের ইমামতি করেন।

খয়েরবাড়ি-মির্জাপুর জামে মসজিদে ঈদের জামাতের ইমাম মাওলানা দেলোয়ার হোসেন কাজী বলেন, ১৯৯৭ সাল থেকে এভাবে নামাজ আদায়ের পরিকল্পনা থাকলেও ২০১৩ সাল থেকেই আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করছি। বিগত বছরের তুলনায় এবারের জামাতে মুসল্লির উপস্থিতি বেশি হয়েছে।

বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, সৌদির সঙ্গে মিল রেখে আজ বিরামপুর উপজেলার দুটি গ্রামের মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে সেখানে যাতে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেজন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চাঁদপুর: চাঁদপুরের ৪০টি গ্রামেও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুর ফিতর উদযাপিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সাদ্রা দরবার শরীফ কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ৮৭ বছর ধরে চাঁদপুরের ৪০টি গ্রামের মানুষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো পালন করে আসছেন।

হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের সাদ্রা হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আবু ইছহাক ১৯২৮ সাল থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সব ধর্মীয় রীতিনীতি প্রচলন শুরু করেন। ইছহাকের মৃত্যুর পর তার ছয় ছেলে এ মতবাদের প্রচার চালিয়ে আসছেন।

জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব দক্ষিণ ও কচুয়া উপজেলার ৪০টি গ্রামে প্রায় ৮৭ বছর ধরে এভাবে ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আজহা উদযাপিত হয়ে আসছে।

ইছহাকের বড় ছেলে ও সাদ্রা গ্রামের গদিশীন পীর আবু যোফার আবদুল হাই বলেন, রবিবার সকালে সাদ্রা হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়া হবে।

যেসব গ্রামে ঈদ হচ্ছে সেগুলো হলো, হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, বেলচো, জাঁকনি, প্রতাপপুর, গোবিন্দপুর, দক্ষিণ বলাখাল। ফরিদগঞ্জ উপজেলার-সেনাগাঁও, বাসারা উভারামপুর, উটতলী, মুন্সিরহাট, মূলপাড়া, বদরপুর, পাইকপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, কাইতাড়া, নুরপুর, শাচনমেঘ, ষোলা, হাঁসা, চরদুখিয়া এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলার দশআনী, মোহনপুর, পাঁচআনী ও কচুয়া উপজেলার উজানি গ্রাম।

সাদ্রা ছাড়াও জেলার ৪০টি গ্রামের একাংশ (ওই পীরের অনুসারীরা) একদিন আগে ঈদসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন করেন থাকেন। এছাড়া চাঁদপুরের পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও চট্টগ্রাম জেলার কয়েকটি স্থানে মাও. ইছহাক খানের অনুসারীরা একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন।

বরিশাল: বরিশালের ছয়টি উপজেলার কিছু গ্রামে রবিবার আগাম ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে। এসব গ্রামে বসবাসরত চট্টগ্রামের চন্দনাইশ শাহসুফি দরবার শরিফ, সাতকানিয়া মির্জাখালী দরবার শরিফ এবং আহমাদিয়া জামাত অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের প্রায় ২ হাজার অনুসারীসহ জেলার হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, মুলাদী, বাকেরগঞ্জের সুন্দরকাঠী, মহানগরীসহ সদর উপজেলার প্রায় ৫ হাজার অনুসারী প্রতি বছরের ন্যায় এবারও একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেছে।

বরিশাল নগরীর ২৩নং ওয়ার্ডের তাজকাঠি, জিয়া সড়ক, টিয়াখালী, সিকদার বাড়িসহ সদর উপজেলার সাহেবের হাট এলাকায় ‍সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নগরীর ২৩নং ওয়ার্ডের তাজকাঠি এলাকার হাজিবাড়ি জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাওলানা দেলোয়ার হোসেন নামাজে ইমামতি করেন।

মৌলভীবাজার: জেলার অর্ধ শতাধিক পরিবারের সদস্যরা রবিবার ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

সকাল সাড়ে পাঁচটায় মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকার আহমেদ শাবিস্তা নামক বাসার ছাদে এই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে নারী ও পুরুষ অংশ নেয়।

নামাযে ইমামতি করেন আলহাজ্ব আব্দুল মাওফিক চৌধুরী (পীর সাহেব উজান্ডি ভারত)। ১৫ বছর ধরে ঈদের জামাত আদায় করে আসছেন বলে জানান তিনি।