বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত: কাদের

31

সবুজ সিলেট ডেস্ক::
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জীবনের পাশাপাশি জীবিকার গতি সচল রাখতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে সাধারণ ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সরকার শর্তসাপেক্ষে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শুক্রবার (২৯ মে) বিকালে গণপরিবহন চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের এক মতবিনিময় সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী কাদের এসব কথা বলেন।

এ সময় মন্ত্রী গণপরিবহন চালু করতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে মালিক-শ্রমিকদের ১২ দফা নির্দেশনা দেন।

শুক্রবার বিকাল তিটায় রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ’র অফিসে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ ভবনস্থ সরকারি বাসভবন থেকে ওবায়দুল কাদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সভার সঙ্গে সংযুক্ত হন।

গণপরিবহন চালুর প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধকল্পে সরকার মার্চের শেষ সপ্তাহে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি গণপরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মৃত্যু ও সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছালেও সার্বিক দিক বিবেচনা করে লকডাউন শিথিল করা হচ্ছে। জনগণের জীবনের পাশাপাশি জীবিকার গতি সচল রাখতে শেখ হাসিনার সরকার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে সাধারণ ছুটি না বাড়ানোর এবং গণপরিবহন চালুর বিষয়ে শর্তসাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

পরিবহন মালিক শ্রমিকদের উদ্দেশ তিনি বলেন, ‘লাখ লাখ শ্রমিক, মালিকের জীবনের সঙ্গে পরিবহনের একটি সম্পর্ক রয়েছে। শেখ হাসিনা একজন মানবিক মানুষ, তার মানবিকতা ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রশ্নাতীত। অনুরোধ করবো,আপনারা যারা পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তারা চলমান সংকট মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসাবেন না। সামান্য ভুল বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। আপনারা কিছু শর্ত বা নীতিমালা ঠিক করুন, কীভাবে যাত্রী সেবা দেওয়া যায়, তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা যায়। ’

গণপরিবহন করোনা সংক্রমণের জন্য ভয়ানক হতে পারে মন্তব্য করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে শ্রমিক, চালক, যাত্রী, পথচারী অনেকেই সংশ্লিষ্ট। একজন গাড়িতে উঠলে চেইন রি-অ্যাকশনে অনেককে সংক্রমিত করতে পারে। তাই ঢালাওভাবে নয়, নিয়ন্ত্রিত উপায়ে সীমিত পরিসরে যাত্রী সেবা প্রদানে আপনারা প্রতিপালনীয় শর্তগুলো ঠিক করুন। শুধু ঠিক করলেই হবে না, কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এর পাশাপাশি দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকেও নজর রাখতে হবে।’

করোনার মৃত্যুর মিছিলের পাশাপাশি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল দেশের মানুষ দেখতে চায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের এ সময় ১২ দফা নির্দেশনা দেন। এগুলো হলো—স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব ও শারিরীক দূরত্ব কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

বাস টার্মিনালে কোনোভাবেই ভিড় করা যাবে না। তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রীরা গাড়ির জন্য লাইনে দাঁড়াবেন এবং টিকিট কাটবেন।

স্টেশনে পর্যাপ্ত হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। বাসে কোনও যাত্রী দাঁড়িয়ে যেতে পারবে না। বাসের সব সিটে যাত্রী নেওয়া যাবে না। ২৫- ৩০ শতাংশ সিট খালি রাখতে হবে। পরিবারের সদস্য হলে পাশের সিটে বসানো যাবে অন্যথায় নয়। যাত্রী, চালক, সহকারী,কাউন্টারের কর্মী সবার জন্য মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক। ট্রিপের শুরুতে এবং শেষে বাধ্যতামূলকভাবে গাড়ির অভ্যন্তরভাগসহ পুরো গাড়িতে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে। যাত্রী ওঠানামার সময় শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। চালক,কন্ডাক্টদের ডিউটি একটানা দেওয়া যাবে না। তাদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোয়ারেন্টিন বা রেস্ট দিতে হবে।

মহাসড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে পথিমধ্যে থামানো, চা বিরতি অ্যাভয়েড করতে পারলে ভালো। কারণ, সংক্রমণ কোথা থেকে হবে তা কেউই জানে না।

যাত্রীদের হাত ব্যাগ, মালামাল জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করতে হবে। ভাড়া নির্ধারণের জন্য বিআরটিএ’র একটি কমিটি রয়েছে। সে কমিটি আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে যুক্তিসঙ্গত ভাড়া চূড়ান্ত করবে।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনারা এমন সিদ্ধান্ত নেবেন এবং বাস্তবায়ন করবেন, যেন গণপরিবহ সংক্রমণের উর্বরক্ষেত্র হতে না পারে। এমনিতেই জনগণ উদ্বিগ্ন। আপনারা জনগণের উদ্বেগকে কমিয়ে আনতে সাহায্য করবেন। অতীতে দেশ ও জাতির নানান সংকটে পরিবাহন খাত সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখনও আমরা একটি পরীক্ষার মুখোমুখি। জননেত্রী শেখ হাসিনা গণপরিবহন সীমিত পর্যায়ে পরিচালনার যে সাহসী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তা আপনাদের ওপর দৃঢ় আস্থার বহিঃপ্রকাশ। আপনারা তার আস্থার প্রতি সন্মান রাখবেন। ’

তিনি আরও বলেন, ‘টার্মিনালে চালক, সহকারী ও শ্রমিকদের কাউন্সেলিং করুন। প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবেন গাড়ি চালুর আগে। পুলিশ প্রশাসন, বিআরটিএ ও মন্ত্রণালয় আপনাদের সহযোগিতা দেবে। পাশাপাশি নিয়ম অমান্য করলেও শাস্তির বিধান থাকবে জনস্বার্থে। বিআরটিএ’র মোবাইল কোর্ট সক্রিয় থাকবে।’

পরিশেষে বলবো, গণপরিবহন একটি সেবামূলক খাত, জাতির এ সংকটকালে আপনারা জাতির সেবক হোন। পরিবহনগুলো যাতে সংক্রমণের কেন্দ্রে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সজাগ থাকুন। সরকার গৃহীত কার্যক্রমে সহযোগিতা করুন। ইনশাআল্লাহ, আমরা সফলকাম হবো। প্রধানমন্ত্রী জীবিকার কথা ভেবে যে সুযোগ দিয়েছেন। আশা করি, আপনারা তার সদ্ব্যবহার করবেন।’