সাংবাদিক সুশান্তের জামিন নামঞ্জুর

5

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
দৈনিক আমার হবিগঞ্জের সম্পাদক প্রকাশক ও আমার এমপি ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন জেলা ও দায়রা জজ।

মঙ্গলবার বেলা ১২টায় বাদী ও বিবাদী পক্ষের শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ আমজাদ হোসেন এ আদেশ দেন।

হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পদক সায়েদুজ্জামান জাহির গত ২০ মে দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে হবিগঞ্জ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সুশান্ত দাশ গুপ্ত, নির্বাহী সম্পাদক নুরুজ্জামান মানিক, বার্তা সম্পাদক রায়হান উদ্দিন সুমন ও প্রতিবেদক তারেক হাবিবকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন।

২১ মে ভোর ছয়টায় হবিগঞ্জ থানার একদল পুলিশ সুশান্ত দাশ গুপ্তকে শহরের চিড়াকান্দি এলাকায় দৈনিক আমার হবিগঞ্জ অফিস থেকে গ্রেপ্তার করে। বাকি সাংবাদিকরা গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এর আগে গত ২৭ মে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সুশান্ত দাশের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হয়। মঙ্গলবার বাদী পক্ষে ছিলেন পিপি সিরাজুল হক চৌধুরী, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থসহ প্রায় ২০ আইনজীবী।

অপরদিকে বিবাদী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহিত আহমেদ চৌধুরী, আব্দুল হাই ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া।

বিবাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহিত আহমেদ চৌধুরী জানান, এ আদেশের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন।

সিলেট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক, ব্লগার সুশান্ত দাশ গুপ্ত গত পহেলা বৈশাখ দৈনিক আমার হবিগঞ্জ প্রকাশ করেন।

পত্রিকার কয়েকটি সংখ্যায় ত্রানের চাল আত্মসাতের সাথে জড়িত ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বাররা কার হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন ছাড়াও এক ছাত্রলীগ নেতার বিভিন্ন অপকর্ম বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

মামলার বাদী হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সায়েদুজ্জামান জাহির আরজিতে উল্লেখ করেন যে, বাদি পক্ষ দৈনিক আমার হবিগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ আবু জাহিরকে জড়িয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করেছেন। সাংসদ আবু জাহির প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য।

এতে প্রেস ক্লাবের সম্মান ক্ষুণ্ন হওযায় তিনি সংক্ষুব্ধ হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছেন। সুশান্তের পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের দাবিতে প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের বরাবরে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান পরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সচেতন নাগরিক সমাজ একই দাবিতে সভা, মানববন্ধন ও বিবৃতি দিয়েছেন।

সংবাদ পরিবেশনের সাথে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো বিষয় জড়িত নয় প্রমাণিত হওযায় জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান পরিষদ ও পূজা উদযাপন পরিষদ হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এমপির পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাদেরকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

স্থায়ীভাবে কেন তাদেরকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হবে না এ মর্মে ৭দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার জন্য নোটিশ দিয়েছে ওই দুই সংগঠনের কেন্দ্রিয় কমিটি।

এদিকে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সুশান্তের মুক্তি দাবিতে দেশ বিদেশের সাংবাদিক ও ব্লগাররা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।