ছোট্ট ভুলের বড় শাস্তি : অনুশোচনায় পুড়ছেন সাকিব

9

খেলা ডেস্ক:: 
ভুল করেছিলেন ‘ছোট্ট’ একটি। সে জন্য পেয়েছেন অনেক বড় শাস্তি। দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা। যদিও আইসিসি, সহযোগিতা করার জন্য শুরুতেই এক বছর স্থগিত করে দেয়। ফলে এক বছর সাজা ভোগ করছেন বিশ্বের এক সময়ের তিন ফরম্যাটেই সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

সেই ছোট্ট ভুলটি যে কেন করলেন, সে জন্য এখন গভীর অনুতাপে ভুগছেন বাংলাদেশের সেরা এই ক্রিকেটার। ভারতীয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলের সঙ্গে ক্রিকবাজের ‘কনভারসেশনে’ এসে এই অনুতাপের কথা জানান সাকিব।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতিনি আহ্বান জানান, যে কোনো ধরনের সন্দেহজনক কিছু হলেই যেন তারা সেটা বোর্ডকে জানায়। এতে অনেক বড় বিপদ থেকে সবাই বেঁচে যাবে।

গত বছর অক্টোবরেই আইসিসির নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন সাকিব। অপরাধ, ভারতীয় জুয়াড়ি দিপক আগরওয়াল তাকে ফিক্সিংয়ের যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা তিনি জানাননি আইসিসিকে। পরে আইসিসি যখন তদন্ত শুরু করে, তখন সাকিব সব স্বীকার করে নেন। এরপরই দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার শাস্তি ঘোষণা করে আইসিসি। একই সঙ্গে ১ বছরের শাস্তি স্থগিত ঘোষণা করে।

হার্শা ভোগলের সঙ্গে ক্রিকবাজের কনভারসেশনে সাকিব বলেন, ‘ভারতীয় জুয়াড়ি কর্তৃক হঠাৎ করেই আমি প্রস্তাব পাই। বিষয়টাকে খুব একটা গুরুত্ব দিইনি। যে কারণে, আইসিসিকেও জানাইনি। কিন্তু যখন আমি আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের মুখোমুখি হই, তখন যা জানতাম, তার সবই বলে দিই। তাদেরকে সব প্রমাণাদিও দিয়ে দিই। দেখলাম, তারা সব জানতো।’

হার্শা ভোগলেকে একই সঙ্গে সাকিব আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, এ কারণেই শুধু আমার শাস্তির মেয়াদ হয়েছে মাত্র এক বছর। না হয়, আমি ৫ বছর কিংবা ১০ বছরের জন্যও নিষিদ্ধ হয়ে যেতে পারতাম।’

নিষিদ্ধ হওয়ার আগেই গত বছর ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ব্যাট হাতে ৬০৬ রান করার পাশাপাশি উইকেটও নিয়েছিলেন ১১টি। সেই পারফরম্যান্সের পর এ ধরনের একটি শাস্তির মুখোমুখি হওয়া সত্যিই অনেক বাজে একটি বিষয়।

সাকিব আল হাসান বলেন ভুলটা বড় ছিল না। ছোট্ট। তবুও বড় শাস্তি পেতে হলো। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ওটা ছিল খুব ছোট একটি ভুল। কারণ, আমার অভিজ্ঞতা, যতগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছি, যতগুলো আইসিসির অ্যান্টি করাপশন কোড অব কন্ডাক্টের ক্লাস করেছি, সেগুলোর ভিত্তিতে আমার এই সিদ্ধান্ত (জুয়াড়ির প্রস্তাব আইসিসিকে না জানানো) মোটেও ঠিক হয়নি, সত্যি কথা।’

এ থেকে দারুণ একটি শিক্ষা নিয়েছেন সাকিব। এ কারণে তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতি পরামর্শ দিতে চান তিনি যে, যে কোনো পরিস্থিতিতে, যে কোনো কিছুকেই হালকাভাবে নেয়া ঠিক হবে না। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যি অনুতপ্ত। এ ধরনের কোনো জুয়াড়ির কাছ থেকে কোনো কল কিংবা মেসেজ আসলে সেগুলোকে যেন কোনোভাবেই হালকা করে না নেয়। কিংবা এড়িয়ে না যায়। নিজের নিরাপত্তার জন্য হলেও বিষয়গুলো আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটকে জানানো উচিৎ। এটাই আমি শিখেছি এই শাস্তি থেকে। অনেক বড় এক শিক্ষা।’

সাকিবের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছর ২৯ অক্টোবর। তিনি হার্শা ভোগলেকে জানান, আইসিসির আকসুকে বিষয়টা না জানানোটা তার নিজেকেই খুব রাগান্বিত করেছিল যে, কেন বিষয়টা তার মাথায় আসেনি এবং তিনি যে একটা ভুল করছেন, এ বিষয়টাও তার চিন্তায় আসেনি।

সাকিব বলেন, ‘কারণ, আপনি আপনার জীবনে অনেক কিছুই সঠিক কাজ করে থাকেন, সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। কিন্তু কোনো কোনো সিদ্ধান্ত আপনার নিজেকেই রাগান্বিত করে তুলবে। হয়তো আপনি বুঝতেই পারবেন না যে, আপনি কোনো একটি ভুল করেছেন। আমার মাথায় কোনোভাবেই আসেনি যে, আমি কোনো একটি ভুল করতে যাচ্ছি।’

সঙ্গে সাকিব যোগ করেন, ‘এটা ছিল এমন অনুভূতি, যাক ক হবে এতে আর, কিছুই হবে না। এটাকে এড়িয়ে যাই এবং আমি আমার জীবনটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই। এটাই আমি ভুল করে ফেলেছিলাম এবং এরপর এত কিছু ঘটে গেছে।’

সাকিবের মন-মানসিকতায়ও অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি দাবি করছেন। একই সঙ্গে অনুভব করছেন, তিনি আসলে জাতীয় দলের খেলোয়াড় হয়ে নিজের দেশ ও জাতিকে কি দিতে পেরেছেন। সাকিব বলেন, ‘এই সময়টা এবং এই পরিস্থিতি (নিষেধাজ্ঞার সময়) আমাকে ভিন্নভাবে অনেক কিছু ভাবতে শিখিয়েছে। আগে আমি আমার দেশের জন্য খেলতাম, আমার নিজের জন্য এবং নিজের পরিবারের জন্য খেলতাাম। কিন্তু এখন আমি চিন্তা করছি, গত ১২-১৫ বছর ধরে দেশের যে মানুষগুলো আমাকে সমর্থন করে গেছেন তাদের জন্য আমি কি করতে পেরেছি। এটাই এখন আমাদে খুব বেশি হতাশ করে যে আমি আসলে কি করতে পেরেছি। কিভাবে তাদের এই সমর্থণের প্রতিদান দিতে পারবো? এটাই এখন শুধু আমার মানসিকতায়।’