বন্যার কবলে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ,জনদুর্ভোগ চরমে

27

আলাল হোসেন রাফি,দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::
মরণঘাতি করোনা ভাইরাসে কয়েকদিনের টানা ভারীবর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে অকাল বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার সব’কটি ইউনিয়নের সহস্রাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভারী বর্ষনে সৃষ্ট বন্যায় অধিকাংশ ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, দোকানপাঠ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ,ধর্মীয় উপাসনালয় ভানের পানিতে ডুবে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন ভানবাসী। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বন্যার পানিতে গৃহবন্ধী হয়ে পড়ায় আয় রোজগার করতে পারছেন না তারা। এতে না খেয়ে থাকার উপক্রম দেখা দিয়েছে এসব পরিবারে। এছাড়া ও পরিবারের শিশু সদস্যদের জন্য কপালে দেখা দিয়েছে চিন্তার ভাঁজ।

এছাড়া গ্রামীন সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে।

উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ইনাতনগর গ্রামের বাবুল মিয়া ও নবীনগর গ্রামের উজ্জল হোসেন বলেন, বন্যার পানিতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘরবন্ধী রয়েছি । ফলে আমাদের আয় উপার্জন বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সবাইকে নিয়ে অনাহারে থাকতে হবে।

দর্গাপাশা ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের মাহবুব আলম সোহাগ বলেন, প্রতিবছর নিম্নাঞ্চল হওয়ায় এমনিতেই আমাদের গ্রামের রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। এবছর পানি শুধু গ্রামের রাস্তায় নয় মানুষের ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। এতে আমাদের গ্রামের অধিকাংশ পরিবার পানিবন্ধী রয়েছেন। এজন্য রাস্তায় মাটি ভরাটের পাশাপাশি পানিবন্ধী পরিবারকে ত্রানসামগ্রী দিতে ইউনিয়ন ও উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

এদিকে পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও পয়েন্টের সব’কটি দোকানে পানি প্রবেশ করেছে। এতে দোকানগুলোর পণ্যসামগ্রী, আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দোকানের মালিকরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, যারা পানিবন্ধী রয়েছেন তাদেরকে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। বন্যার সকল খবরাখবর জানাতে কন্ট্রলরোম খোলা হয়েছে এবং প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত পরিবারকে শুকনো খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ উপকরণ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’