জোট হিসেবে করোনা মোকাবিলায় মাঠে ছিল না ১৪ দল

7

সবুজ সিলেট ডেস্ক::
দল হিসেবে আওয়ামী লীগ করোনা মোকাবিলায় মাঠে সক্রিয় থাকলেও দলটির নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের কার্যক্রম ছিল না বললেই চলে। শরিক দলগুলো যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণ করলেও বক্তৃতা-বিবৃতি ছাড়া আর কোনও কর্মসূচি ছিল না। তবে একটি শরিক দল সীমিত আকারে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ও করোনা প্রতিরোধী সামগ্রী সরবরাহ করেছে।

জোটটির নেতারা বলছেন, একাধিকবার কর্মসূচি এবং করণীয় নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও জোটটির প্রয়াত মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম অসুস্থ হয়ে পড়ায় তা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন জানান, জুমের মাধ্যমে জোট শরিকদের একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কিন্তু মোহাম্মদ নাসিম অসুস্থ হয়ে পড়ায় তা আর হয়নি।

তবে, গত ২২ মার্চ জোটটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে করোনা মোকাবিলায় দুর্যোগ প্রতিরোধে গঠিত ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল পুনর্গঠিত করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি জোটের পক্ষ থেকে করোনা প্রতিরোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, জোটগতভাবে কর্মসূচি পালন বা করোনা মোকাবিলায় সক্রিয় না থাকলেও অধিকাংশ শরিক দল যার যার জায়গা থেকে কাজ করেছে। তিনি বলেন, তার দল জেলায় জেলায় ত্রাণ দিয়েছে। দলের নেতাকর্মীর পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন করে তুলতে কাজ করেছে।

জোটটির মূল শরিক আওয়ামী লীগ আগাগোড়াই করোনা সংকটে মাঠে ছিল বলে উল্লেখ করেন এর অন্যতম শীর্ষ নেতা ও কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি বলেন, শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ ত্রাণ বিতরণ, কাজ হারানোদের তালিকা করা, করোনা প্রতিরোধী সামগ্রী বিতরণ, কৃষকদের ধান কেটে দেওয়ার কাজে সম্পৃক্ত ছিল। সরকারি ত্রাণ বিতরণে সম্পৃক্ত থেকে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শুরু থেকেই তাদের দলের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ আজ বুধবারও (৮ জুলাই) রাজশাহীতে দলের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

এই দলটির পক্ষ থেকে করোনার শুরুতেই করোনাভাইরাস নিয়ে জাতীয়ভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করতে আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানানো হয়। গত ৪ মার্চ দলটির পলিট ব্যুরোর সান্ধ্যকালীন অধিবেশনে এ প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরে ২১ মার্চ দলটির পলিট ব্যুরোর পক্ষ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে সারাদেশ ১৫ দিনের জন্য লকডাউনের আহ্বান জানানো হয়।

গত ৩ এপ্রিল করোনায় করণীয় নিয়ে জনগণের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু। এতে তিনি বলেন, আমাদের প্রথম কাজ করোনা বিস্তার ঠেকানো, যেকোনও মূল্যেই লোকসমাগম বন্ধ রাখতেই হবে, যেকোনও মূল্যেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেই হবে। অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না, ঘরে থাকুন, নিজে নিরাপদ থাকুন অন্যকে নিরাপদে থাকতে সাহায্য করুন।

তিনি সরকারের কাছে করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র, ল্যাব ও প্রয়োজনীয় কিট, মেশিনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকা, দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তারের এলাকাসহ রাজধানী ঢাকা ও বিভিন্ন জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাসদের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা জানান। এছাড়া গত ৮ এপ্রিল দলটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার একটি যৌথ বিবৃতি দেন। এতে তারা দেশের করোনা পরিস্থিতিতে গাফিলতি ও প্রস্তুতিহীনতা নিয়ে কাউকে দোষারোপ না করে সম্মিলিতভাব কাজ করার আহ্বান জানান।

জোটের আরেক শরিক গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদত হোসেন জানান, তাদের দলের পক্ষ থেকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানের নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তা করা হয়েছে।

কমিউনিস্ট কেন্দ্র নামের শরিকটি বিচ্ছিন্নভাবে চিকিৎসা সহায়তা ও করোনা প্রতিরোধী সামগ্রী বিতরণ করেছে বলে এর আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম জানান।