বিয়ানীবাজারে জনপ্রিয় হচ্ছে ৯৯৯

8

মিলাদ জয়নুল, বিয়ানীবাজার ::
বিয়ানীবাজারে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে জাতীয় সরকারি সহায়তা প্রদান ফোন নাম্বার ৯৯৯। তড়িৎ ব্যবস্থা এবং দ্রুত সেবা পেতে উপজেলার অনেকেই এই নাম্বারে ফোন করে উপকার পাচ্ছেন। গত কয়েকমাসে উপজেলার অনেকেই ৯৯৯ এ ফোন করে সরকারি সেবা পেয়ে আনন্দিত হয়েছেন। এখানকার বেশীরভাগ লোক ৯৯৯ এর সেবা সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।
কলেজ-মাদ্রাসা এবং স্কুল পড়–য়া শিক্ষার্থীরাও ৯৯৯ এর সেবা নিয়ে সন্তোষ্ট। তারা জানে এই নাম্বারে ফোন করলে সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়।

সর্বশেষ বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা দিঘলবাক গ্রামে অটোরিক্সা চালক নিহতের ঘটনায়ও পুলিশি সেবা পেতে ৯৯৯ এ ফোন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে গভীর রাতেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে। এই মামলার আসামীরা নিহতের পরিবারকে জিম্মী করে রাখে। এর আগে একই ফোন নাম্বারে বানরের আক্রমণ থেকে রক্ষা, নারী নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সহায়তায় এগিয়ে আসে। শেওলায় নিহত অটোরিক্সা চালক কয়েছ আহমদের ছেলে সাইদুল ইসলাম বলেন, শুনেছিলেন যে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে দ্রুত সহযোগিতা পাওয়া যায়। কিন্তু ফোন করার ৩০ মিনিটের মধ্যেই যে পুলিশ ঘটনাস্থলে চলে আসে, যা তাঁর কাছে ছিল অবিশ্বাস্য। আবার ফোনটি করতে কোনো খরচও হয়নি। প্রভাষক জহির উদ্দিন বলেন, আমি ক্লাসে পাঠদানের সময় এই সেবার কথা শিক্ষার্থীদের জানিয়েছি। কলেজ ছাত্র মিজানুর রহমান বলেন, তিনি একটি বিষয়ে ৯৯৯ এ ফোন করে উপকার পেয়েছেন।

মূলত ৯৯৯ নাগরিকের জরুরি যেকোনো প্রয়োজনে কোনো একটি মুঠোফোন থেকে সম্পূর্ণ টোল ফ্রি বা বিনা পয়সায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়ে থাকে। সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে এই সেবা। গত ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর এই ৯৯৯ চালু করা হয়।

জাতীয় জরুরি সেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের সহায়তা চেয়েই বেশির ভাগ ফোন আসে। এ ছাড়া দুর্ঘটনার খবর জানাতে ও নিরাপত্তা চেয়েও অনেক বেশি ফোন আসে।
বিয়ানীবাজারের অনেক প্রবাসী ৯৯৯ এ ফোন করে সেবার জন্য অনুরোধ করেন। তাদের পারিবারিক সমস্যা এবং জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ নিতেও ফোন করেন কেউ কেউ।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অবণী শংকর কর বলেন, ৯৯৯ এ জাতীয় সহায়তা কেন্দ্র। এখানে ফোন করে অনেকে সহায়তা চান। আমরা সে ধরণের সংবাদ পেলে দ্রুত পুলিশি সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করি।

সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, ৯৯৯ এর উদ্দেশ্য হলো মানুষকে দ্রুত সেবা দেয়া। উন্নত বিশ্বের আদলে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে এরকম উদ্যোগের সুফল পাচ্ছেন মানুষ। বিশেষ করে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে এই উদ্যোগ বেশ সহায়ক হয়েছে। গ্রামের মানুষও ৯৯৯ নাম্বারকে খুব সহজে কাজে লাগাতে পারছে।

৯৯৯ প্রসঙ্গে সরকারি চাকুরিজীবি ও কবি ফজলুল হক বলেন, এটি সরকারের খুবই ইতিবাচক উদ্যোগ। এ সেবা চালু করার সময় অনেকেই বলেছিলেন, এটা তেমন কোনো কাজে আসবে না। কিন্তু এখন প্রায়ই শুনি অনেকেই উপকৃত হয়েছেন। এ সেবাটি মানুষের আস্থার জায়গাটা করে নিতে পেরেছে। মানুষ প্রশংসা করছে। এখন দরকার হচ্ছে, ৯৯৯ তে ফোন করলে যে ধরনের সেবা পাওয়া যায়, তা মানুষকে জানাতে হবে। তবেই এই উদ্যোগ সফল হবে।