করোনা সন্দেহে বৃদ্ধ বাবাকে রাস্তায় ফেলে গেল ছেলে!

20

সবুজ সিলেট ডেস্ক

করোনার কারণে মানবতা হারিয়ে যাচ্ছে। মনুষ্যত্ববোধ এতটাই নিচে নেমে গেছে যে সন্তান হয়েও বাবাকে রাস্তায় ফেলে যেতে মায়া দেখাচ্ছে না। গতকাল সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জন্মদাতা এক পিতাকে রাস্তায় ফেলে রেখে গেছে সন্তান।

এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে মানুষের মধ্যে মায়া ও মমতাবোধ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

জানা যায়, উপজেলার গয়হাট্টা মানিকদহ গ্রামের মৃত এন্তাজ আলীর ছেলে বয়োবৃদ্ধ ছোবহান আলী। গত কয়েকদিন যাবত তিনি শ্বাসকষ্ট ও জ্বর-ঠাণ্ডায় ভুগছিলেন। বাবা ছোবহানের করোনা হয়েছে এমন সন্দেহ হওয়ায় ছেলে নজরুল ইসলাম বাবাকে সোমবার সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলে বের করে আনে। এরপর পাষণ্ড ছেলে বাবা ছোবহানকে উল্লাপাড়া পৌর শহরের বাস টার্মিনালের কাছে পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে চলে যায়।
চলে যাবার সময় ছেলে বাবাকে বলে, ‘বাবা তুমি এখানে এক রাত থাকো, কাল এসে তোমাকে নিয়ে যাবো। বাবা ছেলের কথায় বিশ্বাস করে সেখানেই শুয়ে থাকে। ওই বৃদ্ধকে গভীর রাতে একা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে সংবাদ দেয়। পুলিশ মানবিকতার হাত বাড়িয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে উল্লাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেন।

উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে অসহায়ভাবে ফেলে রাখা ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করা হয়। তাকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, বিষয়টা খুবই দুঃখ জনক, একটা ছেলে বাবাকে রাতের আধারে পরিত্যক্ত জায়গায় ফেলে যেতে পারে এটা কল্পনাও করা যায় না।

তিনি বলেন, রাতে উদ্ধার না করলে হয়তো ওই বৃদ্ধ মারা যেতো। ওই বৃদ্ধের ছেলেক ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে।

উল্লাপাড়া থানা স্বাস্থ্য ও পরিবার পকিল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, অসুস্থ বৃদ্ধকে রাতে পুলিশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। বর্তমানে তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। করোনা পজেটিভ হলে সে মোতাবেক চিকিৎসা দেয়া হবে।