এন্ড্রু কিশোরের শেষ বিদায় আজ

5

রাজশাহীতে এন্ড্রু কিশোরের আজই শেষ দিন। হিমঘর থেকে রাজশাহী সিটি চার্চে, সেখান থেকে কালেক্টরেট মাঠের পাশে খ্রিষ্টান কবরস্থানে চিরঘুমে যাবেন তিনি। এই শহরে তাঁর প্রথম নিশ্বাস, এই শহরেই শেষ। রাজশাহী থেকে ঢাকা, সেখান থেকে বাংলা গানের পঙ্খিরাজে চেপে সারা পৃথিবীর বাংলাভাষীদের হৃদয় ভ্রমণ শেষে কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর, বাংলার অমর প্লেব্যাক-সম্রাট পাড়ি দিচ্ছেন অন্য ভুবনে।

মহামারির কাল না হলে নিশ্চয়ই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হতো। সারা দেশ থেকে আসা অনুরাগীদের ফুলে ডুবে থাকত তাঁর সারা দেহ। ইচ্ছা থাকলেও রাজশাহীর শহীদ মিনারেও নেওয়া হচ্ছে না তাঁকে। সংগীতশিল্পীদের মধ্যে তেমন কেউ যেতে পারছেন না শেষযাত্রায় অংশ নিতে।

বড় বোন মার্সেলা শিখা বিশ্বাস যখন গান শিখতেন ওস্তাদ আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে, এন্ড্রু তখন তৃতীয় শ্রেণির বালক। বোনের পাশে চুপ করে বসে থাকতেন। একসময় বড় দুই ভাইবোনকেই পাঠিয়ে দেওয়া হলো বরিশালে বোর্ডিং স্কুলে। ওস্তাদজি এসে তাঁদের বাবাকে অনুরোধ করলেন, তাহলে এন্ড্রুকে গান শেখানো হোক। সংগীতের সমঝদার বাবা রাজি হলেন। হাসিমুখে রোজ সাইকেলে করে ছেলেকে সুরবাণী সংগীত বিদ্যালয়ে নিয়ে যেতে শুরু করলেন। ১৯৬৪ সালে এভাবেই রাজশাহী শহরে গানে হাতেখড়ি হলো এন্ড্রু কিশোরের। পরের ৫৬ বছর সংগীতের ইতিহাস সবারই জানা।

ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে ৬ জুলাই রাজশাহীতে মারা যান এন্ড্রু কিশোর। চিকিৎসার চেষ্টাকে ব্যর্থ করে সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেই ফোন করেছিলেন নিজের জীবনের প্রথম হিট গানের সুরকার আলম খানকে। জানিয়েছিলেন নিজ শেষ অবস্থার কথা। দ্বৈত কণ্ঠে বহু গান করেছিলেন যে সাবিনা ইয়াসমীনের সঙ্গে, তাঁর সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছিলেন বেশ কবার। সাবিনা বলেছিলেন রাজশাহী না গিয়ে ঢাকায় আরেকবার ভালো ডাক্তার দেখাতে। কিশোর চেয়েছিলেন রাজশাহীতেই শেষ কয়েকটা দিন কাটাবেন। হানিফ সংকেতকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘দোস্ত, আমার সময় শেষ, আই অ্যাম রেডি টু ফ্লাই।’

চিরনিদ্রায় যাচ্ছেন প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর। ছবি: প্রথম আলোচিরনিদ্রায় যাচ্ছেন প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর। ছবি: প্রথম আলো

গতকাল সন্ধ্যার পর সিটি চার্চে জ্বলছিল আলো। গির্জার সামনে ঝুলছিল একটি ব্যানার। বড় বড় হরফে তাতে লেখা ছিল ‘এন্ড্রু কিশোরের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি’। লেখাগুলোর ওপরে লেখা ছিল, ‘মেঘগুলি আমার জীবনে ভেসে আসে, আর বৃষ্টি বা সূর্যের ঝড় বহন করে না, বরং আমার সূর্যাস্তের আকাশে রং যোগ করে’ কথাগুলো। ব্যানারটির সামনে কিশোরের ছেলে জয় এন্ড্রু সপ্তক ও মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা ফুল দিয়ে একটি মঞ্চ বানাচ্ছিলেন। রাত সোয়া আটটার দিকে প্রয়াত এন্ড্রু কিশোরের স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু আশঙ্কা প্রকাশ করলেন, রাতের মধ্যে ফুলগুলো শুকিয়ে যাবে না তো!