বালাগঞ্জের দুরন্ত সাকিব মাতিয়েছে বিশ্বকাপ

23

নুরুল হক শিপু


একসময় যে ছেলেটি গ্রামের বন্ধুদের মাতিয়ে রাখত আজ সেই ছেলেটিই বিশ্বকে মাতিয়েছে। গ্রামের দুরন্ত সেই ছেলেটির দুরন্তপনা দেখা গেছে পুরো যুব বিশ^কাপে। বাবা-মা, বোন, আত্মীয় স্বজন এমনকি বন্ধুরাও তাকে সাকিব নামে ডাকে। যুব বিশ্বকাপেও তার পরিচয় ছিল সাকিব নামে। সাকিব নামটিই যেন এক বিস্ময়। যে বিস্ময় জড়িয়ে আছে বিশ্বনন্দিত অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের নামের সাথে। বিশ্বনন্দিত অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের মতো হয়তোবা একদিন যুব বিশ^কাপের নন্দিত সাকিবের দিকেও তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ তথা পুরো বিশ্ব।
বলছিলাম যুব বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের বুকে কাঁপন ধরানো বোলার তানজিম হাসান সাকিবের কথা। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে যার বেড়ে ওঠা। গ্রামের মাঠে ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত থাকা সাকিব ২০০২ সালের ২০ অক্টোবর বালাগঞ্জ উপজেলার তিলক চান্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করে। বাবা মো. গৌছ আলী একজন ব্যবসায়ী আর মা সেলিনা পারভীন সেলি গৃহিণী। ৩ বোনের একমাত্র ভাই সাকিব সবার ছোট। স্কুলে পড়ালেখার সময় ক্লাস ক্যাপ্টেন আবার গ্রামে খেলার মাঠেও ক্যাপ্টেন থাকা যেন সাকিবের নেশা ছিল। বন্ধুদের মাঝেও নেতৃত্ব সাকিব দিত।

মায়ের সাথে সাকিব

সাকিবের পরিবার সূত্রে জানা যায়, চঞ্চল সাকিবের সবচেয়ে বড় নেশা ছিল ক্রিকেটার হওয়া। বাবা গৌছ আলী দীর্ঘদিন ছিলেন কাতার প্রবাসী। দেশে ফিরে ছেলেকে পড়ালেখা মনযোগী হতে কতই না শাসন করেছেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। ক্রিকেটের ব্যাপারে কোনো আপসই করত না সাকিব। সকল বাধা উপেক্ষা করে ঠিকই চলে যেত খেলার মাঠে। একপর্যায়ে বাবা গৌছ আলীও অপারগতা স্বীকার করলেন। সিদ্ধান্ত নিলেন শেষ দেখতে হবে। ছেলেকে উৎসাহ দিতে শুরু করলেন। সাফ বলে দিলেন-তরে ক্রিকেটার ওইতেউ ওইব (তোকে ক্রিকেটার হতেই হবে), ধরকার ওইলে তর তলে সব সম্পত্তি খরচ করমু (প্রয়োজনে তোর পেছনে সকল সম্পদ উজাড় করব)।’ এরপর ২০১৫ সালে তৃণমূল থেকে ক্রিকেট বোর্ড বাছাই করে বের করে তরুণ ক্রিকেটারদেরকে। বাছাইয়ে অংশ নেয় সাকিবও। প্রাথমিকভাবে ঠিকে যায়। এরপর ৪০০শ তরুণকে চট্টগ্রামে জহুরুল স্টেডিয়ামে দেয়া হয় প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণ শেষে আবারো করা হয় বাছাই। নেয়া হয় মাত্র ৫০ জনকে। সেই ৫০ জনেও ঠিকে থাকে সিলেটের সাকিব। এরপর বিকেএসপিতে ভর্তি হয় সে। বিকেএসপিতে থাকাবস্থায় অধ্যায়ন করে পাস করে এসএসসি। পর্যায়ক্রমে সাকিব তার প্রতিভায় স্থান পায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দলে। এরপর ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডসহ অনেক দেশে অনূর্ধ্ব ১৯-এর হয়ে খেলে যুব বিশ^কাপেও স্থান করে নেয়। বিভিন্ন ম্যাচে ওপেনার বোলার হিসেবে সাকিবকেই দেখা গেছে। যুব বিশ^কাপেও এর ব্যতয় ঘটেনি। ফাইনাল ম্যাচে দ্বিতীয়তে বোলিংয়ে আসে সে। এই ম্যাচে ৩টি ওভারই মেইডেন নিতে সক্ষম হয়।
সাকিবের বাবা গৌছ আলী বলেন, ছেলেকে একজন মেধাবী ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমি আমার সব অর্জন ব্যয় করতে প্রস্তুত ছিলাম। সবচেয়ে বড় বিষয় সাকিব খুব জেদি ছেলে। ক্রিকেটার হতে তার নিজের জেদই বেশি কাজ করেছে। সাকিব যেন একদিন জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি ছেলের জন্য সবার কাছে দুআ চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ ২০১৮-১৯ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্রিকেট দলের হয়ে ২৭ মার্চ ২০১৯ সালে ক্রিকেটে স্থান অর্জন করেছিল সাকিব।