গোয়াইনঘাটে ছাগল পালন করে হিরার বাজিমাত

20

শাহ আলম, গোয়াইনঘাট
পেশায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করছেন হিরা আহমেদ (৪০)। শখের বসে বাড়ির পাশে তৈরি করেছেন নানা রঙে সাজানো একটি ছাগলের খামার। নাম দিয়েছেন এটির ‘মায়ের দোয়া’ ছাগলের খামার। সেখানে হরেক রকমের ছাগল এনে রীতিমত এলাকায় বাজিমাত সৃষ্ঠি করেছেন। মানুষ বিভিন্ন যায়গা থেকে তার গৃহের ছাগল ক্রয় করতে ভীর জমান বাড়িতে। এখন অবসর সময়ে ওই খামারটিই যেন ধ্যানজ্ঞাণ। চাকরির পাশাপাশি তরুণ এই উদ্যোক্তার প্রাণীদের প্রতি অগাধ প্রেম যেন সব কিছুকেই হার মানায়। এমন মহৎ উদ্যোগ দেখে এলাকার বেকার যুবকরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। প্রথমেই ১টি বø্যাক বেঙ্গল ছাগল দিয়ে তিনি খামারটি তৈরি করেন। ১টি ছাগল দিয়ে সাজানো খামারটিতে বর্তমানে ছাগলের সংখ্যা রয়েছে প্রায় ২৭ টি। আর সপ্তাহ খানেক আগে ৪টি ছাগল তিনি বিক্রি করেছেন। এখন আস্তে আস্তে বাড়তে চলছে তার খামারে বিভিন্ন প্রজাতির ছাগল। খামারে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০-১১ প্রজাতির ছাগল রয়েছে। এসব ছাগলের মধ্যে রয়েছে তোতাপাড়ি, বিটল, যমুনাপাড়ি, শিরহি, বø্যাক বেঙ্গলসহ নানা জাতের ছাগল। বিভিন্ন রকমের বিভিন্ন ছাগল বিক্রি করেন ২০-২৫ হাজার টাকায়। এছাড়াও এসবের পাশাপাশি খামারে দেশী মোরগ ও চীনা হাঁস রয়েছে ১২০টির মতো। বাড়ীর একপাশে একটি খুপরি ঘরে এসব ছাগল থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ঘরে আলো, বাতাসও পর্যাপ্ত পরিমাণে দিচ্ছেন। এদের খাবার হিসেবে সব চাইতে বেশি দেওয়া হচ্ছে কাঁঠালি পাতা। এছাড়াও বটপাতা, গমের ভূষি, মটরের ছোলা, কুড়া, খড়সহ নানা ধরনের মিশ্র খাবার দেওয়া হচ্ছে। আর এসব পালন করে একদিকে যেমন তার শখ পূরণ হচ্ছে অন্য দিকে আয়েরও একটি কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।
সম্প্রতি, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রাধানগর এলাকায় হিরা মিয়ার বাসায় তৈরি খামারটিতে গিয়ে দেখা যায়, চার দেয়ালের টিনশেড ঘরের পাশের খুপরি ঘওে মায়ের দোয়া নামে তৈরি করেছেন ছাগল পালনের খামার। সেখানে পরিবারের ছেলে-মেয়েকে নিয়ে যতœসহকারে ছাগলের খাবার দিচ্ছেন। খামারে কয়েক প্রজাতির হাঁস-মোরগও পালন করছেন।
এ সময় তিনি বলেন, এক সময় শখের বসে তিনি বাজার থেকে ১টি বø্যাক বেঙ্গল ছাগল কিনে বাসা বাড়িতে তৈরি করেন শখের খামার। এরপর নিজের চাহিদা অনুযায়ী হরেক রকমের দেশি-বিদেশি ছাগল এনে তার খামারে যোগ করেন। তারপর আস্তে আস্তে খামারে বাড়তে থাকে বিভিন্ন প্রজাতির ছাগল। অভাবের তাড়না না থাকা স্বত্বেও ছাগল পালন করে ভালোই আয় রোজগার করেন তিনি। তবে, সরকারিভাবে কোন সহযোগিতা পেলে খামারটি আরও বড় করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রাণীদের প্রতি আমার ছোট বেলা থেকেই এক ধরনের প্রেম জমে আছে। এই প্রেম থেকেই আজ এই খামারটি তৈরি করা। যদি সরকারিভাবে কোন সহযোগিতা পাই তাহলে খামারটি আরও বড় করে এলাকার বেকার তরুণদেরও এ কাজে উদ্ধুগ্ধ করব। এছাড়াও সম্প্রতি কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তারা আমার খামারটি পরিদর্শন করেছেন।

  •