সুনামগঞ্জে জেব্রাক্রসিং মুছে যাওয়ার বিড়ম্বনা

5

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
কয়েকদিন আগে সুনামগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যক্তি ও পৌরসভার উদ্যোগে জেব্রাক্রসিং অঙ্কন করা হলেও এখন সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। এসব জেব্রাক্রসিং নিন্মমানের রং ব্যবহার করায় জেব্রাক্রসিংয়ের সকল রেখা মুছে গিয়েছে। তাই পৌর শহরে বাড়ছে দুর্ঘটনা। সড়ক পারাপার হতে গিয়েও নানা বিড়ম্বনায় পড়ছেন সাধারণ নাগরিক তথা স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সরজমিনে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হোসেন বখত চত্বর সংলগ্ন সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা বিদ্যালয় এলাকা, বিহারী পয়েন্ট, কাজির পয়েন্ট, সুনামগঞ্জ ট্যাকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এলাকা, জেলা পরিষদ কার্যালয় ও এলজিইডির সামনের সড়কে কোনো ধরনের জেব্রাক্রসিং লক্ষ্য করা যায়নি। তবে কোথাও কোথাও জেব্রাক্রসিংয়ের দুয়েকটি রেখা এখনো দৃশ্যমান রয়েছে। এই জেব্রাক্রসিং না থাকায় সড়কে চলাচলকারী পরিবহনগুলো গতিবেগ বেশি থাকে। ট্রাফিক আইন না মেনে দ্রæত গতিতে মোটর সাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা চালতেও দেখা যায়।
সুনামগঞ্জ সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিদ্যালয় ছুটির সময় এই সড়কে যানবাহন সংখ্যা বেড়ে যায়। তাছাড়া অনেক ছেলেরা ওই সময়ে অনেক দ্রæত গতিতে মোটরসাইকেল চালায়। এ কারণে সড়ক পারাপারে সমস্যা হয়। বেশ কয়েকদিন আগে জেব্রাক্রসিং করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা এক সপ্তাহ পরই বৃষ্টির পানিতে মুছে গিয়েছিল। এরপর সড়কে জেব্রাক্রসিং আঁকার আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
শহরের মল্লিকপুর এলাকার বাসিন্দা হৃদয় চৌধুরী হাসান বলেন, মল্লিকপুরে আব্দুর জহুর সেতু হওয়ায় এখানে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার গাড়ি চলাচল করে। বিশেষ করে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও এলজিইডি’র সামনের অংশে মানুষের আনাগোনা বেশি হওয়ায় এই অংশে পারাপারে সমস্যা হয়। এখানে অনেক সময় দুর্ঘটনারও শিকার হতে হয়েছে অনেককে। তাই ভালোমানের জেব্রা ক্রসিং তৈরি করা প্রয়োজন।
সুনামগঞ্জ যাত্রী কল্যাণ পরিষদের সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান তারেক বলেন, প্রতিটি স্কুল কলেজের সামনের সড়কে গতিরোধকের বদলে জেব্রাক্রসিং দেওয়া উচিত। যাতে শিক্ষার্থীরা সহজেই সড়ক পারাপার করতে পারে।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ পৌরসভাকে অন্যরকমভাবে সাজানোর পরিকল্পনা আমাদের হাতে রয়েছে। যার মধ্যে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সড়ক পারপারের জন্য জেব্রাক্রসিং অন্যতম। আমরা খুব শীঘ্রই এই কাজগুলোতে হাত দিবো।

  •