দুর্নীতি বন্ধে জাতির জনকের বক্তৃতা জোরে জোরে বাজানো যায় না?

3

সবুজ সিলেট ডেস্ক
দুর্নীতি আর ঘুষ বন্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তা এখন থেকে জোরে জোরে বাজানো যায় কি না বলে প্রশ্ন রেখেছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্বস্তরের রাষ্ট্রীয় সব অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ ¯েøাগান বাধ্যতামূলক মর্মে নির্দেশনা দিয়ে জারি করা রুলের শুনানিতে এমন মন্তব্য করেন উচ্চ আদালত।
গতকাল বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়।
এ দিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
জাতির পিতার বিভিন্ন স্থানে দেয়া ভাষণে ও কাউকে চিঠিপত্র লেখার পর ওই ভাষণ বা পত্রের শেষে আল্লাহ হাফেজ এরপর ‘জয় বাংলা’ ¯েøাগান দিতেন বলে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
তিনি বলেন, ‘৭১ সালে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তির পর দেশে ফিরে জওহর লাল নেহেরুকে লেখা চিঠিতে আল্লাহ হাফেজ এবং সর্বশেষ জয় বাংলা ¯েøাগান লিখে শেষ করেছিলেন। তিনি দেশে-বিদেশে অসংখ্য স্থানে মিটিংয়ে বক্তৃতার পর এবং চিঠি শেষে এ ¯েøাগান দিয়েছিলেন।’
শুনানির একপর্যায়ে মাহবুবে আলম বলেন, ‘১৯৭২ সালের ৫ এপ্রিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজে গিয়ে এক বক্তৃতায় দুর্নীতি ও ঘুষের বিরুদ্ধে কথা বলেন। জাতির পিতা বলছিলেন, আপনাদের কাছে আমার আরেকটি অনুরোধ হলো, যে দুর্নীতি ও ঘুষের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে রাজি আছেন কি না? জবাবে জনগণ বলেছিলেন হ্যাঁ।’
এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘দুর্নীতি ও ঘুষ নিয়ে এখন জাতির জনকের ওই বক্তৃতা জোরে জোরে বাজানো যায় না? দেশের ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান খালি হয়ে যাচ্ছে। দেশের মাত্র ২০-২২ জন লোক দেউলিয়া হয়ে গেলে, ব্যাংক খাতে ধস নামবে।’

  •