চীনের পাশে থাকায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে জিনপিংয়ের চিঠি

9

সবুজ সিলেট ডেস্ক
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় চীনের পাশে থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ও দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি শি জিনপিং। এক চিঠিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
গত সোমবার চীনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ওই চিঠি পাঠানো হয়। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় চীনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া আসছে ১৭ মার্চ থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের সাফল্যের প্রত্যাশাও জানান জিনপিং।
চিঠিতে জিনপিং লিখেছেন, নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে চীন যখন যুদ্ধ করছে, ঠিক তেমন একটি সময়ে আপনার সমর্থন ও সহমর্মিতা জানানো চিঠি পেয়েছি। চিঠিতে চীনের প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ আবেগের যে বহিঃপ্রকাশ ফুটে উঠেছে, সে কারণে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি, চীন সরকার ও চীনের জনগণের পক্ষ থেকে আমি সাধুবাদ জানাই।
করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ ভাইরাসের বিরুদ্ধে চীনের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে জিনপিং বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই গোটা চীনা জাতি একত্রিত হয়ে সমন্বিতভাবে এই ভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের কারণেই মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে থাকা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। এই ভাইরাসের মহামারী রোধ করতে আমরা সক্ষম হবো, সে বিষয়ে আমাদের পূর্ণ আস্থা, সক্ষমতা ও প্রতিজ্ঞা রয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি আমরা আমাদের এ বছরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক যেসব লক্ষ্য রয়েছে, সেগুলো পূরণ করতেও বদ্ধপরিকর। আর এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে চীনের যে ব্যাপক পদক্ষেপ, তা কেবল চীনের জনগণের জীবন, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাই নয়, বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যেও তা অবদান রাখবে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করে শি জিনপিং চিঠিতে লিখেছেন, বাংলাদেশি জনগণের প্রাণপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে মহামান্য শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। আমরা চীনারাও তার জন্মশতবর্ষের আয়োজন ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের বিষয়টি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছি এবং এই আয়োজনের সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

  •