মুজিববর্ষে মোদি আসলে বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা হবে : ভিপি নুর

9

সবুজ সিলেট ডেস্ক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে সাধারণ মানুষের রক্ত লেগে আছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা নন। তিনি বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের নেতা। তার শততম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসলে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অসম্মান করা হবে।’
গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘সাম্প্রদায়িক মোদি সরকার ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ও সিএএ নিয়ে আন্দোলনরতদের ওপর হামলা’ শিরোনামে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ওই সমাবেশের আয়োজন করে।
ভিপি নুর বলেন, ‘মোদির হাতে মুসলিমদের রক্ত লেগে আছে। তার হাতে গণমানুষের রক্ত লেগে আছে। মোদি একজন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ। মোদি ২০০২ সালে গুজরাটে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে একটি সামান্য ঘটনা নিয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে মুসলিম-হিন্দু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটিয়েছিল। আজ ট্রাম্প মোদিকে বলছেন ‘ক্লোজ বন্ধু’, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ২০০৫ সালে সাম্প্রদায়িক কাজে জড়িত থাকার জন্য মোদিকে ডিপ্লোমেটিক ভিসা দেয়নি। পাশাপাশি অনেক রাষ্ট্র মোদির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সে রকম একজন দাঙ্গাবাজ, যিনি সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য ছিলেন, সেই মোদি জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে অতিথি হিসেবে আসতে পারে না। এটা হলে দেশের মানুষকে অপমান করা হবে, বঙ্গবন্ধুর প্রতি অসম্মান করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটা কথা বলতে চাই, বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক কোনও দলের নেতা নন। তিনি বাংলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নেতা। তিনি বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের নেতা। তার জন্মদিনে কখনও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ মোদি আসতে পারে না। আর কখনও যদি মোদি আসে, তাহলে সাধারণ ছাত্ররা নিজের রক্ত দিয়ে তা প্রতিহত করবে। মোদির মতো একজন সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে আমরা অংশ নিতে দেবো না।’
ডাকসু ভিপি আরও বলেন, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে দাওয়াত করা হয়েছে। আমরা তার মতো একজন অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিকে স্যালুট জানাই। নোবেল বিজয়ী আরও অনেককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এমন অসাম্প্রদায়িক এবং প্রগতিশীল ব্যক্তিদের আমরা স্বাগত জানাবো।
মুজিববর্ষকে পবিত্র অনুষ্ঠান উল্লেখ করে নুর আরও বলেন, ‘আমরা যে রাজনৈতিক দলই করি না কেন, মানুষের মুক্তি সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না। বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমাদের হক রয়েছে। তাই বঙ্গবন্ধুর অনুষ্ঠানে মোদিকে এনে কলঙ্কিত করতে আমরা দেবো না। সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা স্পষ্টভাবে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা বলেন। আজ যখন ভারতে সাম্প্রদায়িক বিভাজন, দাঙ্গা তৈরি হয়েছে, তা শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি সমস্ত দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়বে। এ অবস্থায় ভারতের ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন আরএসএলের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই।’
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ শেষে আবারও রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

  •