খালেদা জামিন না পাওয়ায় বিক্ষোভ করবে বিএনপি

5

হাই কোর্টের আদেশের পর বৃহস্পতিবার বিকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

খালেদা জিয়ার  ‘নিঃশর্ত মুক্তি’ দাবি করে তিনি বলেন, “এই যে দেশনেত্রীর জামিনের আবেদন খারিজের যে আদেশ দেওয়া হল, এর প্রতিবাদে আগামী শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী জেলা সদরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।”

আর কেন্দ্রীয়ভাবে সেদিন বেলা ২টায় ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

দুর্নীতির দুই মামলায় মোট ১৭ বছরের দণ্ড মাথায় নিয়ে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত এপ্রিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এর আগেও তিন দফা জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন খালেদা জিয়া। অন্যান্য মামলায় তিনি জামিনে থাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা আশায় ছিলেন, এবার জামিন হলে হয়ত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মুক্তির পথ খুলবে।

কিন্তু বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কেএম জহিরুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবারও খালেদার জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়। আদেশে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিনের পক্ষে ‘নতুন কোনো কারণ’ এবারের আবেদনে পাওয়া যায়নি।

বিকালে বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “সরকারের নির্দেশে দেশনেত্রীর জামিনের আবেদন খারিজের আদেশে বিএনপির পক্ষ থেকে আমি তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি।”

তার ভাষায়, “উচ্চ আদালতের এই খারিজ আদেশের মধ্য দিয়ে সরকারের হিংস্রাশ্রয়ী নীতিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটল। সরকার মুক্তিপণ আদায়ের মতই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়, অন্যায্য ও সকল আইনি অধিকার লঙ্ঘন করে কারারুদ্ধ করে রেখেছে।”

কী সেই মুক্তিপণ? রিজভী বলছেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে সরকার ‘অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখার মুক্তিপণ’ আদায় করছে।

অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উ্ন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, হারুনুর রশীদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  •