বিশ্বনাথে কচরাকেলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অচলাবস্থা শিক্ষকরা আসেন দেরিতে স্কুল ছুটি দেয়া হয় দুপুরে

8

বিশ্বনাথ, অফিস
বিশ্বনাথের দশঘর ইউনিয়নের কচরাকেলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অচলাবস্থা বিরাজ করছে। যে কোন সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই বিদ্যালয়টি। এ বিষয়ে সু-স্পষ্ট মতামত দিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। স্কুলে দেরিতে আসা ও দুপুরে ছুটি দেয়ার কারণে সম্প্রতি দুই শিক্ষককে শো-কজ করেছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার।
দীর্ঘদিন ধরে ১৩ জন শিক্ষার্থী দিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলে আসছে। প্রথম ও পঞ্চম শ্রেণিতে নেই কোনো শিক্ষার্থী। ১৩ শিক্ষার্থীর জন্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ আছেন দুজন মাত্র শিক্ষক। ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবার সিলেট শহরের বাসা থেকে এসে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন দেরিতে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা একেবারেই কম হওয়ার অজুহাতে দুপুর হলেই ছুটি দেওয়া হয় বিদ্যালয়। এমন অনিয়মের চিত্র প্রায় নিত্যদিনের।
জানা গেছে, ৩০ শতক জমির উপর কচরাকেলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন আবদুল মতিন চৌধুরী নামে একজন শিক্ষানুরাগী। ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে শূন্য রয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ। বিদ্যালয়ের সামনে পরিত্যক্ত ভবন থাকায় নেই পর্যাপ্ত খেলাধুলা, একমাত্র ল্যাপটপটিও নষ্ট। বিশুদ্ধ পানির সংকটতো রয়েছেই।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকেই জানান, প্রায় প্রতিদিনই দেরিতে বিদ্যালয়ে আসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। প্রতিদিনই দুপুরে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেয়া হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মুক্তা রায় বলেন, বিদ্যালয়ে তথ্য নিতে স্কুলে আসেন। কতজন শিক্ষার্থী রয়েছেন এ বিষয়ে জানেন না বলে তিনি জানান, তবে দুজন শিক্ষককে শোকজ করার কথা স্বীকার করেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছাইম উল্লাহকে মুঠোফোনে কল দিলেও পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যালয়টি নিয়ে সমস্যায় আছি। সম্প্রতি দেরিতে আসা ও দুপুরে ছুটি দেয়ার কারণে দুজন শিক্ষককে শো-কজ করা হয়েছে। সুস্পষ্ট মতামত দিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ রয়েছে। বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কামরুজ্জামান বলেন, শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বলেছি।

  •