দিরাইয়ে ‘দাদন’র ফাঁদে মানুষ

10

মুজাহিদুল ইসলাম সর্দার, দিরাই
দিরাইয়ে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, দাদন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে উপজেলার টানাখালী বাজার, রাজানগর বাজার, চক বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট ও নামসর্বস্ব সমিতি। কৃষক-দিনমজুর ছাড়াও বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের চেক বন্ধক নিয়ে দাদন দেওয়া এসব দাদন ব্যবসায়ীদের কাজ। এ ছাড়া কিছু মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের লোকজন প্রবাসীদের চেক বন্ধক নিয়ে ঋণ দিচ্ছে। প্রবাসীদের পরিবারের লোকজন জানান, এসব চেক দিয়ে টাকা ব্যাংক থেকে তুলতে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সে জন্য স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেওয়া হচ্ছে। তারা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ সুদে চেক বন্ধক রেখে টাকা নেন। আর কৃষক, দিনমজুরসহ অন্য পেশার মানুষদের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সুদে টাকা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও প্রবাসীদের পরিবারের লোকজনের সুদে টাকা দিতে অতিআগ্রহী সুদ ব্যবসায়ীরা। সুদের টাকা শোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, ব্যবসা, চিকিৎসা, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ২০-৩০ টাকা সুদে টাকা আনতে হয়। টাকা ফেরত দিতে কোনো কারণে বিলম্ব হলেই শুরুতে হয় মানসিক ও শারিরীক নির্যাতন। দাদন ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় মুখ খুলতে সাহস পান না অনেকেই। দিরাই পৌর শহরের পূর্ব দিরাই, দোওজ, মজলিসপুর, হারানপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অনেকে চক্রবৃদ্ধি সুদের কবলে পড়ে সহায়-সম্বল বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
সাবেক কাউন্সিলর জয়নুল হক চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন নামে এলাকায় সমিতি গড়ে উঠেছে, যারা দাদনের ব্যবসা করছে। পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারের কিছু লোকজন দাদন ব্যবসা করছেন। সুদ-আসলের টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে দেনাদারকে মারপিটের ঘটনাও ঘটছে। সুদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। অনেকে ভয়ে এলাকাছাড়া। দিরাই থানার ওসি কে এম নজরুল বলেন, দাদন ব্যবসা বেআইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সফি উল্লাহ বলেন, ‘দাদন ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হওয়ার কথা লোকমুখে শুনেছি। কিন্তু কোন কোন সমিতি বা ব্যক্তি ওই ব্যবসা চালাচ্ছে , তা সুনির্দিষ্ট করে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলায় সরকার অনুমোদিত কোন দাদন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নেই। এ ব্যাপারে সকল কে আরো সচেতন হতে হবে।

  •