‘পূর্ণিমার আলোর দ্যুতিতে পুড়ে ছাই সত্যজিত’

6

মিলাদ জয়নুল, বিয়ানীবাজার
সব মিথ্যে, ভালোবাসার উদ্দাম দ্যুতি তাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে। তাই এ জীবনে আর বাঁচতে চাননা তিনি। শাঁখা-সিদুর গ্রহণের পরও প্রিয়তমার বিয়ে হয়ে গেছে অন্যের সাথে। এ অভিমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে অত্যন্ত স্থিরবুদ্ধিতে আত্মহননের চেষ্ঠা চালান সত্যজিত দাস। গত ৪ঠা ফেব্রæয়ারী এমন স্ট্যাটাস লিখলেও তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ১লা মার্চ গভীর রাতে। বিষাক্ত কিটনাশক পান করে নিজ বসতঘরে যখন তিনি ঘুঙানি শুরু করেন, তখন পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে দ্রæত তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেখানে তার চিকিৎসা চললেও শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ফেসবুকে নিজনামীয় আইডি থেকে সত্যজিত লিখেন, ‘পূর্ণিমা রানী নাথকে আমি খুব ভালোবাসতাম, ভালোবাসি আর পরজনমেও ভালোবাসব। পূর্ণিমাও আমাকে খুব ভালোবাসত। দু’জনের বুঝাপড়া, পছন্দ, অপছন্দ প্রায়ই মিলে যেত। দু’জনের কল্পনার একটা সংসার ছিল। পূর্ণিমার সাথে কাটানো সময় আমার জীবনের সেরা মূহুর্ত ছিল, আমি বেঁচে থাকবো আর পূর্ণিশা অন্যের সংসার করবে, তা কখনো হতে পারে না। সুইসাইড করার জন্য মা, ছোট-বড় ভাই-বোন, ভাতিজা-ভাতিজি, ভাগ্না-ভাগ্নি, কাকা-মামা, পিশি-মাসী, বন্ধু-বান্ধবী, আত্মীয়-স্বজন, পরিজন সবার কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি মহাপাপিষ্ট, সর্বকনিষ্ট এক নরাধম। জানি সর্বধর্মে আত্মহত্যা মহাপাপ হিসেবে বিবেচিত। তারপরেও আমি …করতেছি।’ নিজের প্রেম আর আবেগের কথামালা এভাবে তোলে ধরে প্রায় মাসখানেক অপেক্ষা করেন সত্যজিত। তবুও পূর্ণিমা ফেরেনি, ভূলতে পারেনি ফেলে আসা দিনের অনূভূতি। ভালোবাসার অ¤øমধুর খুনঁসুটিগুলো বারবার ফিরে আসতো প্রিয়তমা হারানোর কষ্ট নিয়ে। তাই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার পর অনেকের অনুরোধ, মায়ের মিনতি কিছুই তাকে টলাতে পারেনি।
সত্যজিত দাস বিয়ানীবাজার পৌরশহরের নয়াগ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক হিসেবে কর্মরত আছেন। পূর্ণিমা রাণী নাথ বড়লেখার বাসিন্দা। তিনি একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে চাকরী করেন। ২০১৬ সাল থেকে তাদের পরিচয়, প্রেম এবং স্বামী-স্ত্রী হিসেবে চলাফেরা। এই সময়ের মধ্যে সত্যজিত-পূর্ণিমাকে কাদিপুর শিবমন্দিরে শাঁখা-সিদুর পরিয়ে দেন। এরমধ্যে একাধিকবার তাদের অভিমান হয়, কথাও বন্ধ ছিল অনেকবার। পূর্ণিমার ভাই এক মন্ত্রীর সহকারি। সেই মন্ত্রীকেও অবহিত করা হয় পুরো বিষয়। কিন্তু কিছুতেই কাজ হয়নি, গত ২রা ফেব্রæয়ারী সিলেট শহরের একটি বাসায় কঠোর গোপনীয়তায় পূর্ণিমার বিয়ে দেয়া হয় অন্যের সাথে। অথচ এর আগে সংসার কর্ম সাধনের জন্য ১৭টি আবেগী চুক্তি হয় তাদের সাথে। এসব চুক্তির স্বাক্ষী ছিল দু’জনার ভালোবাসা। সবচুক্তি বাতিল করে ভালোবাসা বিলিয়ে দিয়ে পূর্ণিমা এখন অন্যের ঘরণী। এটা কিছুতেই মানতে পারছিলেন না সত্যজিত। অনিদ্রায় অসূস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
নিজের ভালোবাসার গল্প, প্রেমিকার ছলনা এবং তার পরিবারের ক্ষমতার দাপটের কথা বর্ণণা করে তিনি গণভবন, বঙ্গভভন, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিপিসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেকের কাছে ই-মেইল করে ফরিয়াদ জানিয়েছেন। মা’র কাছে হতভাগা ছেলেকে ক্ষমা করে দেয়ার আকুতি জানিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন। তবে সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমায় বেঁেচ আছেন সত্যজিত। ভালোবাসার দহন আর পূর্ণিমার আলোর দ্যুতিতে হৃদয় পুড়ে ছারখার হওয়া সত্যজিত এভাবে আর কতদিন বাঁচবেন, তা কেবল ঈশ্বর-ই জানেন।
সত্যজিতের পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষাক্ত কিটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। এখনো তিনি শঙ্কামুক্ত নন। বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অবণী শংকর কর বলেন, এ ধরণের কোন বিষয় কেউ তাকে অবহিত করেনি। তবে তিনি খোঁজখবর নিবেন।

  •