জকিগঞ্জ-কানাইঘাটে গতি বেড়েছে উন্নয়নে

33

নবম সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনের এমপি ছিলেন বহিরাগত বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা জাপার কেন্দ্র্রীয় নেতা সেলিম উদ্দিন। জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটে উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন বিএনপির ইকবাল আহমদ ও আশিক উদ্দিন চৌধুরী। ফলে এ আসনে তখন রুটিন ওয়ার্কের বাইরে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। এর আগে এ আসনে এমপি ছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান শিল্পপতি ড. হাফিজ আহমদ মজুমদার। একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় নৌকার এ প্রার্থী হাফিজ মজুমদার শিক্ষা ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ মজুমদার নিজের নির্বাচনি এলাকাসহ সিলেটের শিক্ষাকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। সে অনুযায়ী শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করছেন তিনি। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, কলেজ ও মাদ্রাসার ২০টি ভবন কানাইঘাটে নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন। এর মধ্যে বেশ কয়েকটির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে জকিগঞ্জের ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন হচ্ছে। এর মধ্যে ২৩টি টেন্ডার হয়েছে কয়েকটির কাজ শেষ পর্যায়ে করা হয়েছে। ৬টির কাজ প্রক্রিয়াধীন। ২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় একতলা থেকে চারতলা পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মিত হচ্ছে জকিগঞ্জে, এর মধ্যে ১৭টির টেন্ডার হয়েছে। প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি মাদ্রাসায় চারতলা ভবন নির্মিত হচ্ছে। জকিগঞ্জ সরকারি কলেজ ও জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, জকিগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার কাজ হচ্ছে।
কানাইঘাটের সুরইঘাটে প্রায় দুই হাজার উপজাতি পরিবারের বসবাস। এখানে সনাতনপঞ্জির বাসিন্দাদের প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে ইতিমধ্যে। প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে লোভা নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে জকিগঞ্জের আটগ্রামের সাথে কানাইঘাটের যোগাযোগ সহজ হবে। ২০০৮ সালে শুরু করা গাছবাড়ি-হরিপুর প্রায় ১৫ কি.মি. ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এবার সমাপ্ত হয়েছে। এ ছাড়া গাছবাড়ি-চতুল এবং রাজাগঞ্জ-চিকনাগুল সড়ক নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কানাইঘাটে ৫টি সড়কে কাজ চলমান রয়েছে। সৌচাগার, শেড নির্মাণসহ চতুল বাজারে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। গাছবাড়ি বাজার ও সড়কের বাজারে কাজ চলছে।
জকিগঞ্জে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুশিয়ারা নদীর সীমান্ত রক্ষা ডাইকের কাজ চলমান রয়েছে। জকিগঞ্জে ৩টি ভ‚মি অফিস একটি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে জকিগঞ্জে ১২টি সেতু/কালভার্ট ও চারতলা বিশিষ্ট একটি মাদ্রাসার ভবন নির্মিত হচ্ছে। ৮ কোটি টাকায় জকিগঞ্জে ৫টি গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার হয়েছে। আরো প্রায় ১৫ কোটি টাকার রাস্তা সংস্কার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কেছরী বিল প্রকল্পে ৩০ কোটির মধ্যে কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। বাপেক্সেও সহযোগিতায় জকিগঞ্জে গ্যাস অনুসন্ধ্যান কাজ চলছে পুরোদমে।
এ ছাড়া জকিগঞ্জ স্থল বন্দর, জকিগঞ্জ-করিমগঞ্জ সেতু, প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে জকিগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্স, উপজেলা অডিটরিয়াম, শেখ রাসেল স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্শিত শরীফগঞ্জ পাম্প হাউজ, ৫০ শয্যার জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অজ্ঞাত কারণে চালু হয়নি আজো। জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট পৌরসভার রাস্থাঘাট নির্শিত হলেও নিজস্ব ভবন হয়নি এবং ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভার শ্রেণি পরিবর্তণ না হওয়ায় গ্রাম্য কাঠামোর এ দুটি পৌরসভায় কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। জকিগঞ্জের হাওরে লাগেনি পরিকল্পিত উন্নয়নের ছেঁয়া। জকিগঞ্জ-সিলেট সড়কে বিআরটিসির বাস চালুর দীর্ঘ দিনের দাবিটিও পূরণ হয়নি আজ অবধি। জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের কোনো কলেজে এখনো সুযোগ হয়নি মাস্টার্স কোর্স চালু করা।
সিলেট ৫-আসনের সাংসদ হাফিজ আহমদ মজুমদার বলেন-জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের প্রায় সব মৌলিক সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এ মেয়াদে গ্রামীণ অবকাঠামো এবং রাস্তাঘাটের কোনো সমস্যা থাকবে না আশা করি।

  •