দর্শক খরা কাটছেই না সিলেট স্টেডিয়ামে

9

খেলা ডেস্ক:
প্রথম ম্যাচ দর্শকশূন্য থাকার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও একই অবস্থা সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের। বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের মধ্যকার চলতি ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও গ্যালারি ফাঁকাই থেকে গেলো। ১৮ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সিলেট স্টেডিয়ামে দর্শক ছিলেন হাজার তিনেকের মত। অথচ সিলেটে ম্যাচ মানেই ছিল উত্তেজনা। দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন এসবই ছিল সিলেটের স্বাভাবিক চিত্র।

ফুটবল কিংবা ক্রিকেট, বিপিএল কিংবা টেস্ট ম্যাচ, সব খেলায়ই দর্শকদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে সিলেট স্টেডিয়াম সংশ্লিষ্টদের। তবে ব্যতিক্রম এবার। টিকেট নিয়ে হাহাকার নেই, নেই স্টেডিয়ামের প্রবেশ পথে দর্শকের লম্বা লাইন। এর আগে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে দর্শকদের চাপ না থাকলেও এতাটা হাহাকার কখনোই ছিলনা। আর এর জন্য প্রচারণার অভাবকেই দায়ী করছেন দর্শকরা। দর্শকরা বলছেন, অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির শেষ ওয়ানডে সিরিজে দর্শকদের আগ্রহ থাকার কথা ছিল প্রচুর, কিন্তু প্রচারণার অভাবে মানুষ জানতেই পারলো না। অন্যান্য সময়ে বিসিবির পাশাপাশি সিলেট ক্রীড়া সংস্থার প্রচারণা ছিল লক্ষণীয়। কিন্তু এবার নগরজুড়ে প্রচারণাতো নেই, এমনকি নেই কোন ব্যানার-পোষ্টারও। একরকম দায়সারাভাবেই এই সিরিজ আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম ম্যাচে দর্শক খরার পর দ্বিতীয় ম্যাচে দর্শক বাড়বে এমন আশা করলেও দ্বিতীয় ম্যাচেও দেখা গেছে একই চিত্র।

খেলা দেখতে আসা বিয়ানীবাজারের জামিল আহমদ বলেন, প্রথম ম্যাচ টিভিতে দেখার পর আমি জানতে পারি খেলা সিলেটে হচ্ছে। আগেভাগে প্রচারণা চালালে আমরা মাঠে বসেই খেলা দেখতাম।

তবে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের মিডিয়া ম্যানেজার ফরহাদ কোরেশি সিলেট ভয়েসকে জানান কমতি ছিল না প্রচারণায়। তিনি বলেন, আগে সিলেটে খেলা খুব একটা ছিলো না। এখন নিয়মিত খেলা হচ্ছে। তাই মানুষের আগ্রহ কিছুটা কম। আর প্রচারের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রত্যেকটা টিভি চ্যানেল সংবাদমাধ্যম এবং স্থানীয়ভাবেও ফ্যাস্টুন ব্যানার এবং মাইকিং করেও প্রচারণা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কয়েকদিন আগে বিপিএলে জিম্বাবুয়ের চেয়েও ভালো ভালো বাংলাদেশী প্লেয়ারদের খেলা দেখে গেছে মানুষজন। মানুষের আগ্রহ হয়ত আগের চেয়ে একটু কম। তাছাড়া এবারের খেলাগুলো কর্মদিবসে হওয়ায় দর্শক স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা কম হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের খেলার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে অভিষিক্ত হয় সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম। এরপর ২০১৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ, ২০১৭ বিপিএলের ছয়টি এবং ২০১৮ সালের বিপিএলের আটটি খেলা, বাংলাদেশ-শ্রীলংকার একটি ওয়ানডে এবং বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি ম্যাচও এ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া সবকটি খেলায়ই সিলেটের দর্শকরা স্টেডিয়ামের গ্যালারি মাতিয়েছেন।

২০১৮ সালের বিপিএলের সিলেট পর্ব নিয়ে রীতিমতো লঙ্কাকাণ্ড হয়েছে সিলেটে। প্রথমেই সিলেটে টিকিট ছিল ‘সোনার হরিণ’। কারণ সেবার অনেকেই আগের রাত থেকেই সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের বুথে হাজারো মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন; যার দৈর্ঘ্য এক কিলোমিটারেরও বেশি ছিল। টিকেট নাপাওয়া দর্শকদের জন্য নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

  •