অভিযান যেন আইওয়াশ! অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন অস্তিত্ব সংকটে লোভানদী

5

আমিনুল ইসলাম, কানাইঘাট
প্রাকৃতি কন্যার আঁচলে ঢাকা কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী লোভাছড়ার সেই অপরূপ সৌন্দর্য আজ আর নেই। ইজারা শর্ত অমান্য করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে লোভানদীসহ আশপাশের বিস্তৃর্ণ এলাকার সৌন্দর্য হারিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন কয়েক দফায় অভিযান করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লোভাছড়ার অভিযান যেন এখন আইওয়াশে পরিণত হয়েছে। কারণ ইজারা শর্ত অমান্য করে যান্ত্রিক বাহন চলছে অবাদে। আর এসব যান্ত্রিক বাহন দিয়ে পাথর উত্তোলন করার কারনে লোভানদী নাব্যতা হারিয়ে তার অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা হতে গভীর রাত পর্যন্ত অসংখ্য ফেলুডার, স্কেবেটর দিয়ে মাটি খননের কাজ চলে। কয়েক দফা অভিযানের পর সর্ব শেষ গত ২৪ ফেব্রæয়ারি সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খানের নেতৃত্বে কোয়ারি এলাকায় টাস্কফোর্সের অভিযান চললেও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত থেকে পাথর উত্তোলন থেমে থাকেনি। যার কারনে এসব অভিযানকে অনেকেই আইওয়াশ মনে করছেন। এবং তাদের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারন অভিযানকালে সাউদগ্রামের ফারুক আহমদের বাড়িতে রাখা ২টি ফেলুডার, স্কেবেটর ভাংচুর করে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা হয় এবং ফারুক আহমদের কলেজ পড়ুয়া ছেলে বাশার আহমদকে আটক করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৪ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। এ জরিমানা আদায় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কারন সেদিন সাউদগ্রাম ও বড়গ্রাম এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে আরো ২৫-৩০ টি স্কেবেটর ও ফেলুডার রাখা ছিল। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমান এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, যারা ইজারা শর্ত অমান্য করে পাথর উত্তোলন করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন এবং যারা শর্ত মেনে পাথর উত্তোলন করছে তাদেরকে হয়রানী না করার জন্য তিনি সব সময় আইনশৃঙ্খলা সভায় বলে থাকেন। কিন্তু একজনের বাড়ীতে গিয়ে অচল অবস্থায় ফেলে রাখা ফেলুডার, স্কেবেটরের ক্ষতি সাধন ও তার ছেলেকে আটক করে ৪ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা কতটুকু যুক্তি সংঘত হয়েছে এমন প্রশ্ন রেখেছেন তিনি? উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খান বলেন, কোয়ারিতে বেআইনিভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আমরা কয়েকবার কোয়ারিতে অভিযান করে কয়েক কোটি টাকার মেশিনারী যন্ত্রপাতি ধ্বংস ও অনেক ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত থেকে পাথর উত্তোলন না করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। লোভা নদীর গথিপথ স্বাভাবিক রাখতে অনেক গর্তের বাঁধ কেটে দিয়েছি। কোয়ারির ইজারাদার মস্তাক আহমদ পলাশ বলেন, ইজারার শর্ত অমান্য করে যারা পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি বার বার কর্তৃপক্ষের কাছে বলে আসছি। সম্প্রতি কোয়ারি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধে মাইকিং করা হয়েছে। যারা শর্ত অমান্য করে পাথর উত্তোলন করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি।

  •