কমলগঞ্জের শহিদ শামছু দিবস জাতীয় স্বীকৃতি দাবি

8

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে স্বৈরাচার সরকার আমলে ১৯৮৬ সালের ৬ মার্চ এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক ধর্মঘট চলছিল। বড় বোনকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পর ধর্মঘটের সমর্থনে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের বাহিরে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন শমশেরনগর এএটিএম বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামছুদ্দীন শামছু।
শামছু শহিদ হওয়ার পর প্রথম কয়েক বছর দিবসটি বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি ও নিজ বিদ্যালয় যথাযত মর্যাদায় পালন করে। তবে এখন পরিবার সদস্যরা ছাড়াও কেউ স্মরণ করছে না শামছুকে। ৬ মার্চ জাতীয়ভাবে শহিদ শামছু দিবস হিসেবে স্বীকৃতির দাবি করা হয়েছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় শহিদ শামছুর শমশেরনগরস্থ বাস ভবনে আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়েছে।
শমশেরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জুয়েল আহমদের সভাপতিত্বে ও ইউপি সদস্য রায়হান ফারুকের পরিচালনায় আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রভাষক ফজলুর রহমান, ইউপি সদস্য ফারুক আহমদ, লিয়াকত আলী, তারিকুজ্জামান সুমন, আব্দুল আলী, সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন, শমশেরনগর বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান, সাধারণ সম্পাদক মোশাহিদ আলী।
সভায় শহিদ শামছুর বড় বোন রুবিনা আক্তার সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, স্বৈরাচারী সরকার আমলে ১৯৮৬ সালের ৬ মার্চ এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে সেরকরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের চলা শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ গুলি ছোড়ে। গুলিতে শমশেরনগর এএটিএম বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র মো. শামছুদ্দীন মারা যায়। সে এদিন বড় বোন রুবিনা আক্তারকে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিল। এ দিবসটিকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দিয়ে ৬ মার্চ শহিদ শামছু দিবস হিসেবে পালন করার দাবি জানানো হয়েছে। অচীরেই এলাকাবাসীর সমন্বয়ে শহিদ শামছু স্মৃতি পরিষদ গঠন করে এ দাবি সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ে আবেদন করা হবে বলেও জানানো।
গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় শমশেরনগর এ এ টি এম বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শহিদ শামছুর স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্পণ করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। তার আগে জুম্মার নামাজের পর তার বাসায় মিলাদ ও দুআ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

  •