বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মুজিববর্ষে মুসলিম হত্যাকারী মোদিকে এদেশের মুসলমান মেনে নেবে না

9

 

সবুজ সিলেট ডেস্ক
ভারতে মুসলিম গণহত্যা-নির্যাতন ও মসজিদ-মিনারে অঙ্গিসংযোগের প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সিলেটের সমমনা ইসলামী দল গুলো। গতকাল শুক্রবার বাদ জুমআ সমমনা ইসলামী দলগুলোর মিছিল নগরীর বিভিন্ন স্পট থেকে সিলেট কোর্ট পয়েন্টে এসে জমায়েত হয়। সেখানে সমাবেশ শেষে সমমনা ইসলামী দল সমূহের সিলেটের ব্যানারে নগরীতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
কোর্ট পয়েন্ট সমাবেশে বক্তারা বলেন, সন্ত্রাসী মোদি মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা করছে, নির্যাতন করছে। মসজিদ-মাদ্রাসা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে। মিনারে হনুমানের পতাকা লাগিয়েছে। এসব কাজ বিশ্বের ১৮০ কোটি মুসলমানদের কলিজায় আঘাত দিয়েছে। মুজিববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশের জনগণ দেখতে চায় না। মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে মোদি যোগ দিলে এদেশে বদরের যুদ্ধের পূণরাবৃত্তি হবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, শাপলা চত্তরে রক্ত দিয়েছি, এ রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি। প্রয়োজনে মোদি দেশে আসলে আবারও রক্ত দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। তবুও মুসলমানদের উপর কোন ধরণের নির্যাতন সহ্য করবো না।
বক্তারা বলেন, আমরা মুজিববর্ষের বিরোধী নই, কিন্তু রক্তপিপাসু নরেন্দ্র মোদি বিরোধী। তাকে এদেশের মুসলমান জনগণ কখনও মেনে নেবে না।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা বলছেন, ভারতে নৃশংসতা তাদের অভ্যন্তরীন বিষয়। তাদের এরকম বক্তব্য ৯৫ ভাগ মুসলমানের দেশে মুসলমানদের কলিজায় আঘাত লেগেছে। মন্ত্রীদের মুখে এরকম বক্তব্য মানায় না। অবিলম্বে ভারতে গণহত্যা বন্ধে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার জোর দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, ইসলাম সবসময় মানবাধিকার, শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার কথা বলে অমুসলিম সম্প্রদায়কে নিরাপত্তাদানের কথা বলে। আমাদের দেশের মুসলমানগণ বারবার তা প্রমাণ করে দেখিয়েছে। এ দেশে মানবপ্রাচীর তৈরি করে মন্দির পাহারা দেয়ার নজির আমরা দেখিয়েছি। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে বসবাস করছে। অথচ ভারতে এর উল্টো চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি। ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় সবসময় সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায় কর্তৃক নির্যাতিত নিপীড়িত হচ্ছে। ভারতের উচিৎ হবে নিজেদের দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মহানগর সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিস মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমরান আলম, জেলা জমিয়তে যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম ও মহানগর খেলাফত মসলিস সহসভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসানের পরিচালনায় হেফাজতে ইসলাম জেলা সভাপতি মাওলানা মুহিবুল হক গাছবাড়ী, খেলাফত মসলিসের কেন্দ্রীয় নায়বে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, জমিয়তে কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শাহীনুর পাশা চৌধুরী, খেলাফত মসলিস নায়বে আমির হাফিজ মাওলানা মজদুিুদ্দন আহমদ, খেলাফত মসলিস জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ইকবাল হোসাইন, মহানগর সভাপতি মাওলানা গাজী রহমত উল্লাহ, কাজির বাজার মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সামীউর রহমান মুসা।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে। ভারতের মসজিদে আগুন দেওয়া ও মুসলমানদের ওপর হামলার প্রতিবাদে উপজেলা উলামা ও তৌহিদি জনতা ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জুমার নামাজের পর ধর্মপাশা বাজার জামে মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মিছিলটি ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে এসে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।
মুফতি আবুল বাশারের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন, মাওলানা বজলুর রহমান, আমিনুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, ফয়সাল আহম্মেদ জিহাদী, হাফেজ আসাদ।
এদিকে ভারতে মুসলিম নির্যাতন ও গণহত্যা বন্ধ এবং মুজিববর্ষে নরেন্দ্র মোদির আগমন প্রতিহত করার দাবিতে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে সমমনা ইসলামী দলসমূহ। গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা শহরের আলফাত স্কয়ার রোড এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।
এ সময় বক্তারা বলেন, ভারতে মুসলিমদের উপর যে হামলা ও নির্যাতন করা হয়েছে, তারপরেও আমাদের সরকার মোদিকে মুজিববর্ষে দাওয়াত দিয়ে মুসলিমদের অপমান করেছে। মোদি যদি বাংলাদেশে আসতে হয়, তাহলে তাকে তিনটি কাজ করতে হবে। দিল্লিতে যে মসজিদ ভাঙা হয়েছে তার মেরামত করে দিতে হবে, দিল্লিতে আমাদের মুসলমান সম্প্রদায়ের উপর যে হামলা চালানো হয়েছে তাদের পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে এবং মোদিকে বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশকে দেখে ভারতের শিক্ষা নেওয়া উচিত। কারণ বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আমরা মুসলিমপ্রধান রাষ্ট্র হলেও কোনো হিন্দু ভাই বা তাদের পরিবারের উপর নির্যাতন করি না। কিন্তু আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ কয়েকদিন আগে যা করল তা সবাই দেখেছে। তাহলে কেন আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশে এমন মানুষকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে? মোদি যদি তিনটি শর্ত পূরণ করেন, তাহলেই তিনি বাংলাদেশে আসতে পারবেন। এছাড়া তিনি এলে দেশের পরিস্থিতি খারাপ হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, মাওলানা নুরুল ইসলাম খান, মাওলানা আনোয়ার হোসেন, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মুফতি আজিজুল হক, মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হক, মাওলানা আব্দুর রকিব, মাওলানা আবু সাইদ, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন।
পরে শহরের আলফাত স্কয়ার রোড এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল কাজির পয়েন্ট এলাকায় গেলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় মিছিলকারীরা কাজির পয়েন্টে অবস্থান করেন এবং সদর উপজেলার কুরবান নগর ইউনিয়নের ধারারগাঁও এলাকায় অনুষ্ঠিত সাদপন্থীদের ইজতেমা বন্ধ করার দাবি জানান। পরে সাদপন্থীদের সাথে পুলিশ সুপার জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করে তাদের ইজতেমা বন্ধ করার নির্দেশ দিলে বিক্ষোভ সমাবেশ সমাপ্ত হয়।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘সরকারের নির্দেশ রয়েছে জেলা পর্যায়ে কোনো গ্রæুপ ইজতেমা করতে পারবে না। তাই আমি তাদের সাথে বসে চলমান ইজতেমা বন্ধ করার জন্য বললে ওই গ্রæপের লোকজন সেটা মেনে নিয়েছেন।’
বিশ্বনাথ অফিস : ভারতে মুসলমানদের গণহত্যা, মসজিদ-মাদরাসা ধংসের প্রতিবাদে ও নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর বাতিলের দাবিতে বিশ্বনাথের ইসলামী সমমনা দলসমূহের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাদ জুমুআ বিশ্বনাথ নতুনবাজারস্থ লাইটেস স্ট্যান্ড সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে মিছিল শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় বাসিয়া সেতুর সম্পন্ন হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে উপজেলা জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা সামছুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক হাসান বিন ফাহিমের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি ও উপজেলা জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা কামরুল ইসলাম ছমির, কেন্দ্রীয় জমিয়তের নির্বাহী সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা শিব্বীর আহমদ বিশ্বনাথী, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা কাজী আব্দুল ওয়াদুদ, সাবেক সভাপতি মাওলানা আব্দুল মতিন, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাবীবুর রহমান, উপজেলা জমিয়তের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাফিজ শাহেদ আহমদ, মাওলানা আহমদ আলী হেলালী, মাওলানা মাহবুবুর রহমান খান, উপজেলা ছাত্র জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমদ, ফরিদ আহমদ ফেরদাউস।
সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সা¤প্রদায়িক দল বিজেপি ও তার সহযোগি সংগঠণগুলো পরিকল্পিতভাবে ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র গঠণের লক্ষ্যে মুসলিম গণহত্যা ও মসজিদ-মাদরাসা ও ইসলামী স্থাপনা ধংস করছে। অনতিবিলম্বে আমরা এ নারকীয় তান্ডব বন্ধের লক্ষ্যে ওয়াইসি, জাতিসংঘসহ মানবধিকার সংগঠণ ও বিশ্ব সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের জানাচ্ছি।
বক্তারা আরো বলেন, নরেন্দ্র মোদি গুজরাটে মুসলিম গণহত্যা, বাবরী মসজিদ ধংস, কাস্মীরে মুসলিম হত্যা ও দিল্লির মুসলমানদের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞের মূল হোতা। মুসলমান হত্যাকারী মোদিকে ৯০ভাগ মুসলমানের দেশে মেনে নেয়া যায় না, মসজিদের শহর ঢাকায় মসজিদ ধংসকারী মোদিকে মেনে নেয়া হবে না। সুতরাং অসা¤প্রদায়িক শাস্থির বাংলাদেশে সা¤প্রদায়িক মোদির সফর বাতিল করতে হবে।
কুলাউড়া প্রতিনিধি জানান, ভারতের দিল্লিতে মুসলিম গণহত্যা বন্ধ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে সফর বাতিলের দাবিতে কুলাউড়ায় বিক্ষোভ করেছে সম্মিলিত তৌহিদী জনতা।
গতকাল শুক্রবার জুমা’র নামাজ শেষে কুলাউড়ার উত্তরবাজার মসজিদের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্টেশন চৌমুহনীতে এসে শেষ হয়।
মিছিল পরবর্তী এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে প্রতিবাদী শ্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
মিছিল শেষে সমাবেশে মৌলভীবাজার উলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা বদর উদ্দিনের সভাপতিত্ব বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ, মাওলানা নেছার আহমদ, হাফিজ মতিউর রহমান।
শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে মিছিলটি পরিচালনা করতে মুক্ত স্কাউটের উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম মামুন, সভাপতি এম. মোর্শেদ আলমের নেতৃত্বে কুলাউড়া মুক্ত স্কাউটের নেতৃবৃন্দরা কাজ করেন।
স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর পালনের পক্ষে মত দিয়ে বক্তারা বলেন, মুসলিমদের হত্যা, নিপীড়ন, নির্যাতনে যার (মোদি) হাত রক্তে রঞ্জিত তাকে বাংলাদেশে প্রবেশ না করাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট অনুরোধ করেন নতুবা এদেশের তৌহিদী জনতা মোদির আগমনকে প্রতিরোধ করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

  •