চীনে কোয়ারেন্টাইন হোটেল ধসে ৪ জন নিহত

8

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
চীনের ফুজিয়ান প্রদেশে একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ধসে পড়ার ঘটনায় কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছে। রোববার দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের একটি পাঁচতলা হোটেলকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

২০১৮ সালের জুনে চালু হয়েছিল শিনজিয়া এক্সপ্রেস হোটেলটি। দেশটিতে করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় ওই হোটেলটিকে বিশেষায়িত হাসপাতালে পরিণত করে স্থানীয় প্রশাসন। সেখানে সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্তদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভবনটি হঠাৎ ধসে পড়ে। এসময় ভেতরে অন্তত ৭০ জন অবস্থান করছিলেন।

ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছেন এক হাজারেরও বেশি ফায়ার সার্ভিস কর্মী। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। গাড়িতে করে ভবনের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

ফুজিয়ান প্রদেশের উপকূলীয় কুয়ানঝু শহরে এখন পর্যন্ত ৪৭ জন কোভিড-১৯য়ে আক্রান্ত হয়েছে। এর আগে দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি এক প্রতিবেদনে জানায় যে, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর থেকে রীতিমতো মহামারি আকার ধারণ করেছে এ সংক্রমণ। দেশটিতে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৩ হাজার ৯৭ জন।

বিশ্বের অন্তত ১০৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে নভেল করোনাভাইরাস। বিশ্বজুড়ে এতে আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৬ হাজার ১৯৫ জন। আর মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬০০। এছাড়া করোনা আক্রান্ত ৬০ হাজার ১৯০ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

চীনে প্রায়ই ভবনধসের ঘটনা ঘটে। এর আগে ২০১৬ সালে একটি বহুতল ভবনধসের ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়। অপরদিকে, গত বছর একটি বাণিজ্যিক ভবনধসে পড়ার ঘটনায় ১০ জন প্রাণ হারায়।

  •