নবীগঞ্জে শিক্ষকদের কোচিংয়ে জিম্মি শিক্ষার্থীরা

4

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের কোচিং সেন্টার, প্রাইভেট টিউশনিতে শিক্ষকদের কাচায় বন্দি হয়ে আছেন শিক্ষার্থীরা। অপ্রতিরোধ্য এ কোচিং বাণিজ্যতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
অভিভাবকরা বলছেন, স্কুলের পড়ালেখা মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। আছে শিক্ষকদের সদিচ্ছা নিয়েও। কারণ বেশির ভাগ শিক্ষকরা কোচিংয়ে যেভাবে পড়ান স্কুলে সেভাবে পড়ান না। সেজন্য এক প্রকার বাধ্য হয়েই কোচিং নির্ভর হতে হয়। এতে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। সব মিলিয়ে সরকার বিভিন্ন সময় কোচিং বন্ধের উদ্যোগ নিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। এতো উদ্যোগের পরও কোচিং সেন্টার বন্ধ না হওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে শ্রেণী শিক্ষকরা। কারণ তারাই বেশির ভাগ শিক্ষার্থীদের একটা কাঁচার মধ্যে বন্দি করে রেখেছেন। এজন্য নিরুপায় হয়েই আমরা অভিভাবকরা কোচিং নির্ভর হতে হয়।
তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, কোচিং সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আর স্কুলের কোচিংয়ের করানো বিষয়ে প্রশাসন অবগত নয়। তবে এমন হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিস শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যর বিষয়ে অবগত থাকলেও নেয়নি কোন ব্যবস্থা।
উপজেলার সরকারী স্কুল নবীগঞ্জ জে কে মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও শহরের হীরা মিয়া গার্লস হাই স্কুলের আউশকান্দি র.প.উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের বেশির ভাগ শিক্ষক কোচিং বাণিজ্য করে আসছেন।
এসব প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষায় ফেলের ভয় দেখিয়ে এবং শতভাগ পাসের আশ্বাস দিয়ে সারা বছরই কোচিং সেন্টারে পড়তে বাধ্য করা হয়। শিক্ষক তাদের স্কুল ফাকি দিয়ে ও ক্লাসে সঠিকভাবে পাঠদান না করে কোচিং সেন্টারে আসার কথা বলে দেন।
উপজেলার সচেতন নাগরিকরা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি উল্লেখ করে বলছেন, প্রাইভেট কোচিং এর সাথে জড়িত শিক্ষকদের কোন ব্যবস্থাগ্রহণ করার দৃষ্টান্ত নেই। সেজন্য দিনদিন তারা আরও বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছেন। সেজন্য প্রশাসন, অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
নবীগঞ্জের উপজেলার শিক্ষা অফিসার মো. সাদেক হোসেন বলেন,আমি অফিসে শিক্ষকদেরকে ডেকে নিষেধ দিয়েছি কোচিং সেন্টার চালানোর জন্য।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, সরকারী নীতিমালা লঙ্ঘনকারী শিক্ষকদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সরকারী স্কুলে কোচিং বাণিজ্য চলছে আমার জানা নেই। তবে আমি নবীগঞ্জ জে কে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিব।

  •