ইমরান আহমদের গাড়ি আটকে দিলো পাথর শ্রমিকেরা

8

স্টাফ রিপোর্টার
কোম্পানীগঞ্জের পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার গতকাল মঙ্গলবার দাবিতে সড়ক অববোধ করে রাখে পাথর শ্রমিকরা। এসময় শ্রমিকরা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপির গাড়ি আটকে দেয়। এসময় মন্ত্রীর কাছে পাথরকোয়ারি খুলে দেয়ার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপিতে সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীকে আগামী ১৮ মার্চের মধ্যে কোয়ারী খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম দেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জে ‘প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে যাওয়ার প্রাক্কালে কোম্পানীগঞ্জের বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্কের প্রধান ফটকে মন্ত্রীর গাড়ি আটকায় পাথর শ্রমিকরা।
এদিকে পাথর উত্তোলনের দাবিতে ৫টি সংগঠন মন্ত্রী ইমরান আহমদ বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে।
স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করে, কোম্পানীগঞ্জসহ দেশের কয়েক লক্ষাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের একমাত্র উপায় পাথর কোয়ারি প্রায় মাস খানেক থেকে বন্ধ রয়েছে। যার ফলে লক্ষ লক্ষ পাথর শ্রমিক না খেয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছে। দেশের সবচেয়ে বড় ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় ক্রাশার মিলের মালিক ও পাথর ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ীকভাবে লোকসান গুনতে হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে লোন এনে, ঋণ করে ক্রাশার মিল ও পাথর ব্যবসা শুরু করেন। কোয়ারী বন্ধ থাকায় ঋণ নিয়েও তারা সমস্যায় পড়েছেন।
পাথর কোয়ারী খুলে দেওয়ার দাবিতে গত ৫ মার্চ সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ৯ মার্চ কোম্পানীগঞ্জের লাছুখাল এলাকায় পাথর শ্রমিকরা সমবেত হয়ে পাথর কোয়ারী খুলে দেয়ার দাবি তুলে।
স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, আগামী ১৮ মার্চের মধ্যে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে কোয়ারী খুলে না দিলে পাথর শ্রমিকরা কঠোর আন্দোলন দিতে বাধ্য থাকবে।
স্মারকলিপি প্রদান করেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ষ্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুন নুর, সাধারণ সম্পাদক আফতাব আলী কালা মিয়া, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. আব্দু জলিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী বাবুল, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ষ্টিলবডি নৌকা মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মুখলেছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর আলম।
স্মারকলিপির অনুলিপি সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে প্রেরণ করা হয়।

  •