যুক্তরাষ্ট্রে বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহবায়ক ড. রাব্বি আলমের নেতৃত্বে এবং যুক্তরাষ্ট্র ক্যানসুল মিনিষ্টার হাবিবুর রহমানের উপস্হিতিতে মিশিগানের সংসদে সরকারী ভাবে পালিত হলো বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠান

22
কামরুজ্জামান হেলাল, যুক্তরাষ্ট্র:
যুক্তরাষ্ট্রে বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহবায়ক ড. রাব্বি আলমের নেতৃত্বে এবং যুক্তরাষ্ট্র ক্যানসুল মিনিষ্টার হাবিবুর রহমানের উপস্হিতিতে মিশিগানের সংসদে সরকারী ভাবে পালিত হলো বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহ্ববায়ক ড. রাব্বী আলমের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসাবে বঙ্গবন্ধু কে দেওয়া হল রাজকীয় সন্মাননা “স্পেশাল ট্রিবিউট” স্পেশাল ট্রিবিউটে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের আইন সভায় সরকারী ভাবে পালন করা হল জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শত-তম জন্মবার্ষিকী ।
মোঙ্গলবার ১০ ই মার্চ ২০২০ তারিখে হাঊজ এবং সেনেটের যৌথ অধিবেশনে সহকারী ডেমোক্রাটিক ককাসের চেয়ারম্যান সেনেটর পল ওয়াজনোর নেতৃত্বে এবং হাউজ আব রিপ্রেজেনটেটিভ লরি স্টোনের যৌথ স্পনসরশিপের মাধ্যমে এই বিরল সন্মাননা দেওয়া হলো মিশিগানের ১০০-তম সংসদ থেকে। এসময় সেনেটর পল ওয়াজনো এবং রিপ্রেজেনটেটিভ লরি স্টোনের সাথে উপস্তিত ছিলেন সেনেটর এডম ওলিয়ে, সেনেটর সিলভিয়া সানটানা, সেনেটর জেফ আরভিন, সেনেটর জিম রানস্ট্যাড, সেনেটর স্টেফানি চ্যাং, এবং সেনেটর রোজম্যারী বেয়ার । সাংসদীয় ভাসনে সেনেটর ওয়াজনো বলেন এই বিরল সন্মাননার স্বীকৃতি আমাদের লেজিসলেটিভ ডেলিগেটরের মাধ্যমে অনুমোদিত হল যা আমাদের গভর্নর গ্রিচেইন হুইটম্যার এবং ল্যাফট্যানেন্ট গভর্নর গারলিন গিলক্রেস্টের সাক্ষরিত । তিনি আরও বলেন আমাদের বিশেষ অতিথি হিসাবে বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটির প্রতিনিধি গন ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে আমাদের সাথে যোগদান করেছেন এবং তারা আমাদের আইন সভার পশ্চিম গ্যালারিতে উপস্তিত আছেন । সেনেটর ওয়াজনো সংসদের অধিবেশনে উপস্তিত সকল সেনেটর এবং হাউজ অবশস্পিকার সহ সকলকে উঠে দাডিয়ে করতালির মাধ্যমে বাংলাদেশী আমেরিকানদেরকে অভিনন্দন জানান । সেনেটর ওয়াজনো এই অনুষ্ঠান কে বিশেষ ঐতিহাসিক অনুষ্টান হিসাবে উল্লেখ করেন । তিনি আরও বলেন সংসদীয় অধিবেশন শেষ হবার পরে রুঠান্ডা মিটিং হলে আপনারা আমন্ত্রিত যেখানে বাংলাদেশী নেতৃবন্দ তাদের জাতীর জনকের ১০০ তম জন্মবার্ষিকী পালন করছে । তিনি বলেন আমরা আনন্দিত এবং গর্বিত এমন ইতিহাসের অংশ হতে পেরে । তিনি আরও বলেন জাতীর জনক শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন একাধারে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং প্রথম প্রধান মন্ত্রী । তিনি আরও বলেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘ মেয়াদী তিন বারের নির্বাচিত । তিনি শেখ মুজিবের জীবন, ইতিহাস এবং বিরল নেতৃত্বের প্রতি সন্মাননা প্রদান করে বলেন মুজিব বাংলাদেশীদের প্রেরনা এবং মুজিবের দর্শন ইতিহাসের পাতায় সমুজ্জ্বল এবং চিরস্থায়ী । তিনি তার বক্তব্যে স্পেশাল ট্রিবিউটের বরাত দিয়ে বলেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক ড. এস এ মালেক, প্রধান মন্ত্রীর আইটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং শেখ রেহানা কে লিখিত অভিনন্দন দেওয়া হয়েছে । এসময় তিনি আরও বলেন আমাদের মাঝে উপস্তিত আছেন বাংলাদেশের এ্যামবেসীর ক্যানস্যুলেট মিনিষ্টার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাবিবুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি ড. সিদ্দ্কুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের এক নম্বর সদস্য শাহানারা রহমান সহ যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দ । বিশেষ করে খাজা শাহাব আহম্মেদ, মোহাম্মদ সাহাব উদ্দীন, মিনহাজ রাসেল চৌধুরী, কানুন দনেল বড়ুয়া, নুরুল হাসান পারভেজ এবং নজরুল রহমান । রুথান্ডা মিটিং এ যোগদান করে বক্তব্য রাখেন রিপ্রেজেনটিটিভ লরি স্টোন, পাডমা কুপ্পা, আইজ্যাক রবিনসন, নেইট শ্যানন, জেমস জোন্স, জো টেইট, সেনেটর পল ওয়াজনো, এ্যাডম ওলিয়ে, জিম রানস্ট্যাড, শেলডন বুলাক, স্টেফানি চ্যেং এবং সিলভিয়া স্যানটানা । আরও বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের কার্যকরী সদস্য খাজা শাহাব আহম্মেদ, মোহম্মদ সাহাব উদ্দীন, মিনহাজ রাসেল চৌধুরী, কানন দনেল বডুয়া, নুরুল হাসান পারভেজ, এবং নজরুল রহমান । অন্যান্নের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মিশিগান স্টেট আওয়ামী লীগের সহ—সভাপতি মাহবুব রাব্বী খান, সদস্য অপ্রেশ বডুয়া, সদস্য নুরুজ্জামান এখলাস এবং মিশিগান শ্রমিক লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল বাসিত । এবং বঙ্গবন্ধু কমিশনের ডেলিগেট ইন্টার ফেইথ মিনিষ্টার ইমাম আরিফ হুক্সিচ । উপস্তিত ছিলেন মিশিগান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস শাকুর মাখন এবং মিশিগান স্টেট যুব লীগের সভাপতি জাহেদ আজিজ সুমন। প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ক্যনসুলেট মিনিষ্টার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাবিবুর রহমান । সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহ্বায়ক ড. রাব্বী আলম । সভাপতির বক্তব্যে ড. রাব্বী বলেন এটা কেবল মাত্র বঙ্গবন্ধু র জন্ম শত বর্ষীকি পালন করা নয় – আমরা বঙ্গবন্ধু র খুনিদের বিচার আমেরিকার আইনের আওতায় এনে বিচার করব । ড. রাব্বী প্রধান মন্ত্রীর আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন আমরা যেমন বাংলাদেশের ২০২১ সালের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে কে ডিজিটাল প্লাটফর্মে উন্নীত করেছি তেমনি ২০৪১ শের ১৭ টি গোলের বিশ্লেষন করে প্রধান মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান । ড. আলম বিশ্বাস করেন ২০৪১ শে বাংলাদেশ কে জাপানের মত একটি দেশ হিসাবে রুপান্তরিত করা যেমন সম্ভব তেমনি সরকার কে সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করবার আশ্বাস দেন । ড. রাব্বী বঙ্গবন্ধু কমিশনের ডাটা ও তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন ২০৪১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে প্রায় ২৬০ মিলিয়ন, যা কিনা ছাব্বিশ কোটিকে ছাড়িয়ে যাবে এবং ২৫ বছরের নিচের জনসংখ্যা থাকবে প্রায় ৪৫ শতাংশ ।
তিনি বলেন এটা হবে প্রায় ১২ কোটির এ বেশী । যা কিনা ১২০ মিলিয়ন । এই ১২০ মিলিয়ন যুব সমাজের মোরাল স্যাস্টেন্যাবিলাটি অনেক জরুরী । তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্ববান করে বলেন “সরকার যেন ১৮ তম গোল হিসাবে “ইউথ মোর্যাল ডেভোল্যাপমেন্ট এ্যন্ড স্যাস্টেন্যাবলিটি” কে যুক্ত করবার ব্যাপারে দৃষ্টির করেন । ড. রাব্বী বলেন এই বিদেশে সকলের কাজ কর্ম রেখে যারা এ্যাটেন্ড করেছেন এবং যারা করতে পারেন নি এবং আগামীতে যারা থাকবেন সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন । পরিশেষে ড. রাব্বী মিশিগান সংসদকে এবং বাংলাদেশী কমিউনিটির সকল কে সাহায্য ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সভার পরিসমাপ্তি করেন ।
  •