করোনা ভাইরাসের কারনে প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ষ্টেটের জনগণ ! দোকান গুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সংকট

69

কামরুজ্জামান হেলাল, যুক্তরাষ্ট্র:

যুক্তরাষ্ট্র অধিকাংশ ষ্টেটে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ায় বড় বড় দোকান গুলো উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বেশ কিছু ষ্টোরে সরেজমিন ঘুরে ম্যানেজার, ষ্টোর মালিকের সাথে আর টিভি অনলাইন এর পক্ষ থেকে কথা বলে জানা যায় ভাইরাসে আক্রান্তের খবরে আসে পাসের দোকানগুলো সব খালি হয়ে গেছে বিশেষ করে মুখের মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, টয়লেট পেপার, এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নানা জিনিস সহ অনেক কিছু শেষ হয়ে গেছে তবে আতংকিত হবার কিছু নেই এটা সাময়িক আমাদের Warehouse এ পর্যাপ্ত মালামাল মজুদ আছে, জিনিসের দাম বাড়তে পারে এই আশঙ্কায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। এছাড়া মিশিগানে হ্যামটরমিক সিটিতে অবস্থিত বাংলাদেশী গ্রোসারী ষ্টোর জমির গ্রোসারী,জমির সুপার মার্কেট এবং বেংগল ইস্পাইসি টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে দোকানের মালিকেরা বলেন আমাদের পর্যাপ্ত মালামাল মজুত আছে এছাড়া জানতে চাওয়া হয় অনেক বাংলাদেশী দোকান গুলো তাদের জিনিসের মুল্য বৃদ্ধি করেছে বা দাম বেশি নিচ্ছে এই রকম অভিযোগ করেছে অনেকে, সে বিষয়ে বলেন আমি নির্ধারিত মূল্যই ক্রেতাদের কাছে মাছ, মাংস সব ধরনের জিনিস পত্র সঠিক মুল্য আছে তবে অন্যান্য ষ্টোর গুলোর ব্যাপারে আমি বিস্তারিত কিছু বলতে পারবো না।এদিকে মিশিগানের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল বাসিন্দাদের সতর্ক করেছেন যে, ব্যবসায়ী অতি মুনাফার আশায় করোনা ভাইরাসকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারেন।গত মঙ্গলবার একজনের আক্রান্ত হওয়া এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর এই সতর্কবার্তা দেন। ডানা নেসেল জানান, মুখের মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নানা জিনিসের উচ্চমূল্য রাখতে পারেন ব্যবসায়ীরা। তিনি জানান, এটা মিশিগান কনজিউম্যার প্রোটেকশন অ্যাক্টের লঙ্ঘন। নেসেল বলেন, ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ হতে হবে। সেটা হয়তো আছে। কিন্তু আইনকে তোয়াক্কা না করে অনৈতিক ব্যবসার মাধ্যমে বাসিন্দাদের জিম্মি করে পণ্যের দাম বেশি রাখা হচ্ছে। তিনি জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত দল অনেক অভিযোগ পেয়েছে। এসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ওই দল। তিনি কোনো ব্যবসায়ী বেশি দাম রাখলে ভোক্তাদের অভিযোগ পাঠানোর অনুরোধ করেছেন যাতে সেখানে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করে শাস্তি দেওয়া যায়। তিনি এই নাম্বারে ৮৭৭-৭৬৫-৮৩৮৮ কল করতে বলেছেন। গত রবিবার দুপুর ১২ টার দিকে সরেজমিন ঘুরে Costco, Meijer, Kroger, Walmart, Sams Club সহ অন্যান্য বড় ষ্টোর গুলোতে একই রকম ভিড় লক্ষ্য করা গেছে ভিতরে পেমেন্ট কাউন্টারে ক্রেতাদের অনেক লম্বা লইন ছিলো।এছাড়া কাস্টমারের গাড়ি পার্কিং এর জন্য অনেক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। গত মঙ্গলবার মিশিগানের গভর্ণর গ্রেচেন হুইটমার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। গভর্ণর গ্রেচেন হুইটমার জনসমাগমে না যেতে বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে এই আহ্বান জানান তিনি। এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা স্থানীয় সংস্থা ও হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করবে যাতে দ্রুত ভাইরাসটি ছড়াতে না পারে। করোনা মোকাবেলায় মিশিগানে সেন্ট্রারস ফর ডিজেজেস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন মিশিগান রাজ্যকে ১৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। গত সপ্তাহে কংগ্রেসে ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাব পাশ হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া মিশিগান করপোরেশনও প্রয়োজনে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেবে। সর্ব শেষ খবর অনুযায়ী মিসিগানে ৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া জনস্বার্থে কয়েকটি মিসিগান সহ বেশ কয়েকটি ষ্টেটে university সহ বাংলাদেশী কমিউনিটির বেশ কিছু Program সামরিক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

  •