মুক্তির লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু সারা জীবন পার করে দিয়েছেন: ঢাবি সাবেক উপাচার্য

3

 

সিলেট আওয়ামী লীগের মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, মুক্তির লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু সারা জীবন পার করে দিয়েছেন। শেখ মুজিবুর রহমান তার ৫৫ বছরের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগিয়েছেন। শৈশব, কৈশোর ও লেখাপড়া জীবন বাদ দিলে ৩০ বছর কাজ করেছেন তিনি। এই ৩০ বছরের মধ্যে ১৪ বছর তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন। তাই এই দেশের উন্নয়নের জন্য তিনি সময়ের সদ্ব্যবহার করেছেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ২৪ ঘন্টার মধ্যে কত মিনিট, কত সেকেন্ড আছে হিসাব করতেন। সেই মিনিট সেকেন্ড ধরে তিনি কাজ করেছেন। তিনি একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চেয়েছেন। তিনি একবার একটি পত্রিকার স্বাক্ষাতকারে বলেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ যদি সাম্প্রদায়িক হয় তাহলে আমি হার্টফেইল করবো।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষার অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করে সংস্কৃতি। শিক্ষা ছাড়া সংস্কৃতি অর্থহীন, সংস্কতি ছাড়া শিক্ষা অর্থহীন। তাই মুজিববর্ষের এই আয়োজন অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা যদি বঙ্গবন্ধুর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে চান তাহলে বঙ্গবন্ধুর মত সময়ের সৎ ব্যবহার করতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে জানতে হলে বেশি কিছু করতে হবে না তোমাদের। তোমরা সংবিধান পাঠ করলেই বঙ্গবন্ধুকে জানতে পারবে।
সিলেট আওয়ামী লীগ মুজিব শতবর্ষের ৬ষ্ঠ দিনের অনুষ্ঠানে ‘মুজিব বর্ষের শিক্ষা মানসম্মত শিক্ষা ঃ বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘নব প্রজন্মেও নব চেতনায় বঙ্গবন্ধু’ ¯েøাগানকে ধারণ করে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ধারাবাহিক এই অনুষ্ঠানের ৬ষ্ঠ দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর রিকাবিবাজারস্থ জেলা স্টেডিয়ামে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের নিবেদনে এই অনুষ্ঠান জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয়।
প্রগতিশীল শিক্ষক সমিতির আহবায়ক ভাস্কর রঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। সেমিনারের মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন রসময় মেমোরিয়াল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল আলম।
অধ্যাপক ফয়েজ আহমদ বাবরের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন, বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের সভাপতি সায়েদুল হাসান সেলিম, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সুজাত আলী রফিক, লেখক ও গবেষক মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মিহির কান্তি চৌধুরী।
আরও বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি সিলেট অঞ্চলের সভপতি মো. কবির খান, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সুবল চন্দ্র দাস, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি কুতুব উদ্দিন, মামুন আহমদ, এলায়েছ মিয়া ও বেসরকারি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতিষি মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সদস্য সচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল।
এর আগে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান মঞ্চে আগত অতিথিদের উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নেন। এবং প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
আলোচনাসভা শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ছিল মুক্তাক্ষর, রবিন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ, সুরালোক। একক পরিবেশনায় ছিল, মোকাদ্দেস বাবুল, অর্পিতা তালুকদার অর্ণা, আবু বক্কর আল আমিন, পরাগ রেনু দে, লিংকন দাশ।
আয়োজনের ৭ম দিন আজ শুক্রবার ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে সম্প্রীতি ও সংহতী সমাবেশের নিবেদনে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা সম্প্রীতি বাংলাদেশের মহাসচিব ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নিল। ওই অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের মানুষজনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আয়োজকরা। বিজ্ঞপ্তি

  •