করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত হচ্ছে টঙ্গী ইজতেমা ময়দান

16

সবুজ সিলেট ডেস্ক
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আল্লাহ না করুক, করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি বৃদ্ধি পেলে তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েকে ইজতেমা ময়দানকে প্রস্তুত করার ব্যাপারে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীর চারটি হাসপাতালসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে।
গতকাল রোববার করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণে ১৮টি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষকে নিরাপদে রাখতে চাই। এ কারণে গত দুমাস যাবত পরিশ্রম করছি। দেশের জনগণকে করোনা সংক্রমণ থেকে নিরাপদে রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে কী করণীয়, সে ব্যাপারে পরামর্শ ও তা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্যানিটাইজার সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, স্কুল ছুটির পর যেন বেঞ্চগুলো মুছে ফেলা হয়, সে ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইতালি ও জার্মানপ্রবাসী দুই বাংলাদেশি নাগরিকও বর্তমানে ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন সরকারের রোগতত্ত¡, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।
গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে আইইডিসিআর’র সম্মেলন কক্ষে করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেবরিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, তারা দুজনই পুরুষ। তাদের একজনের বয়স ২৯ ও অপরজনের ৪০ বছরের কিছু বেশি। সম্প্রতি বিদেশফেরত এ দুজনের জ্বর ও সর্দি ছিল। নমুনা পরীক্ষায় তাদের করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন।
তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ জন সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশনে ১০ জন ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে চারজন রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এ পর্যন্ত আইইডিসিআরে ২৩১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে মোট পাঁচজনের নমুনা পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এই পাঁচজনের মধ্যে তিনজন করোনামুক্ত।

  •