কমলগঞ্জে বস্তির নার্সারিতে কাজের সন্ধানে শত শত চা-শ্রমিক

8

জয়নাল আবেদীন, কমলগঞ্জ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বস্তির নার্সারিগুলোতে কাজের সন্ধানে শত শত চা-শ্রমিক। দেশের গুরুত্বপূর্ণ চা-শিল্পাঞ্চলে ভারি হচ্ছে বেকারত্বের বোঝা। এই বেকারত্বদের মধ্যে শিক্ষিত বেকার। এইচএসসি, বিএ পাস করে চাকুরী না পেয়ে চা-বাগানের যুবক, যুবতিরা নানা যন্ত্রনার মধ্যে দিনপাত কাঠাচ্ছেন। পরিবারের সাত, আট সদস্যের মধ্যে একজনের দৈনিক ১০২ টাকা মজুরিতে সংসার চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে ১৬৫টি চা-বাগানের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ চা-শ্রমিক জনগোষ্টি রয়েছে। এদের মধ্যে চা-বাগানে স্থায়ী শ্রমিক হিসাবে প্রায় ৯১ হাজার এবং অস্থায়ী ৩২ হাজার মিলিয়ে কাজ করছেন প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার জনগোষ্ঠি। এছাড়া প্রায় অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী প্রায় আড়াই লাখ বেকার নারী পুরুষ রয়েছে। শিক্ষিতদের যুবক যুবতিদের মধ্যে এসএসসি, এইচএসসি, বিএ পাস।
তারা চা-বাগানে কাজ না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত নানা যন্ত্রনার জীবন যাপন করছেন। যুব সামজের মধ্যে কেউ কেউ নেশাগ্রস্তও হয়ে পড়ছেন। চা-বাগানের মধ্যবয়সি বেকার নারী ও পুরুষ এবং কিছু যুবক ও যুবতি বাগানে কাজ না পেয়ে বস্তি এলাকা, বিল্ডিং কন্ট্রাকশন, মাটি কাটা, লাকড়ি করা, কৃষিকাজ ও নার্সারী সমুহে গিয়ে কাজ করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন।
শমশেরনগর চা-বাগানের শ্রমিক সবিতা নায়েক, ফাঁড়ি দেওছড়া চা-বাগানের বেকার নারী শ্রমিক শান্তি রবিদাস বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের ৫ থেকে ৮ জন সদস্যের মধ্যে একমাত্র স্বামীর দৈনিক ১০২ টাকা মজুরি দিয়ে কাজ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। শমশেরনগর চা-বাগান এর নারী শ্রমিক কাঞ্চনী বাউরী বলেন, আমার একমাত্র মেয়ে আরতি বাউরী এসএসসি পাস করে ঘরে বসেই বেকার জীবন যাপন করছে।
শমশেরনগর জাগরণ যুব ফোরাম এর সভাপতি মোহন রবিদাস ও উত্তরণ বাংলাদেশ এর সভাপতি অনুময় বর্মা বলেন, চা-বাগানে বেকারত্বের বোঝা ভারি হচ্ছে। যুবকদের অনেকেই বিপথগামী হচ্ছে। কাজকর্ম না থাকায় বেকার মধ্যবয়সিরা নানা অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয়ে দুঃখ-কষ্টে জীবন যাপন করছেন।
তারা আরও বলেন, অভাবী সংসারের লাগাম টানতে কেউ কেউ বস্তি এলাকায় গিয়ে মাটি কাটা, লাকড়ি কাটা সহ কঠিন কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। চা-বাগানে বেকারত্ব ঘোচাতে বাগানের পতিত জমিতে নতুন চা-বাগান করা, কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা, মেয়েদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ঋন সুবিধা দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং চা-শ্রমিক শিক্ষিত বেকারদেরকে বোঝা মনে না করে জনশক্তি হিসাবে গড়ে তোলার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান।
শমশেরনগর কানিহাটি চা-বাগানের ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চা-শিল্পে বাগানের পতিত জমিতে নতুন চা-বাগান করা, কারিগরি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা গ্রæপ তৈরি, শিক্ষার হার বৃদ্ধি এজন্য চা-শ্রমিক, মালিক ও সরকার পক্ষকে একযোগে কাজ করে বেকারত্ব মুক্ত না করলে ভবিষ্যতে ভয়াল সমস্যা হয়ে দেখা দেবে।
চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজভজন কৈরী জানান, চা-বাগানে শ্রমিকদের ব্যাপক একটি অংশ বেকার রয়েছে। সারা দেশে চা-বাগানের শিক্ষিত চা-জনগোষ্ঠির সুনির্দিষ্ট জরিপ সম্পন্ন করা না হলেও প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠি রয়েছে। এছাড়া এসএসসি পর্যায়ে উত্তীর্ণ অনুত্তীর্ণদের মধ্যে রয়েছে শোচনীয় অবস্থা। তিনি আরও বলেন, এদের কর্মসংস্থানের জন্য মালিক পক্ষের সাথে আলোচনা চলছে শ্রমিকের ক্ষেত্রে শ্রমিক নিয়োগ, ৭টি ভ্যালিতে কারিগরি বিদ্যালয় স্থাপন ও সরকারি চাকুরীতে উচ্চ শিক্ষিতদের ক্ষেত্রে কৌটা সুবিধার দাবি জানানো হয়েছে।

  •