বিশ্বম্ভরপুরের ৩ কিলোমিটার সড়ক যেন মরণ ফাঁদ

11

বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের শক্তিয়ারখলা থেকে মিয়ারচর পর্যন্ত ৩কিলোমিটার সড়ক দিন দিন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে জন-গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির বেহাল অবস্থা।
এদিকে বিকল্প সড়ক না থাকায় দীর্ঘ ৫ বছর ধরে প্রতিদিন ৫টি ইউনিয়নের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্থরের মানুষ চলাচল কওে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় ছোট বড় দুর্ঘটনাও ঘটে।
জানা যায়, জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের মিয়ারচর, বাগগাওসহ ৫টি গ্রামের ও তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট উত্তর, বড়দল উত্তর, উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ লক্ষাধিক মানুষ এই সড়কটি ব্যবহার করেন। এছাড়া তাহিরপুর উপজেলার তিনটি শুল্ক বন্দরের ব্যবসায়ীগন এই সড়কটি দিয়ে চলাচল করেন।
ওইসব ইউনিয়নগুলোর মানুষজন জেলা শহরের সাথে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক মিয়ারচড়-শক্তিয়ারখলা সড়ক। এই সড়কে মোটরসাইকেল, সিএনজি, টমটম, মাইক্রোবাস, পিকআপসহ ভারী যানবাহন চলাচল করে। সড়কটির ৩ কিলোমিটার গর্ত ও খানাখন্দে ভরপুর। যার ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হন এই সড়ক ব্যবহারকারীরা।
এলজিইডি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই সড়কটি ১ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ অনুমোদন হয়েছিল। টেন্ডার দেওয়া কিন্তু টেন্ডার পাওয়া ঐ ঠিকাদার বর্তমান কাজের খরচের সাথে বরাদ্দের পরিমাণ কম হওয়ায় কাজ করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তাই আর এই সড়কের কাজ শুরু হয়নি। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, এই সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ দুই উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করেন। সড়কটি মেরামত না করায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সবাই।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রæত মেরামত করার দাবী জানান বাঘগাও গ্রামের বাসিন্দা ও তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের লাইব্রেরিয়ান সোহেল আহমদ সাজু। তিনি জানান, শক্তিয়ারখলা বাজারের সামনে ব্রিজ থেকে ভাঙ্গা অংশ শুরু শেষ হয়েছে মিয়ারচর ঘাটে এসে। ফলে এ সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে সবাই। দ্রæত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে।
এ সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালক আরিফ ও মটর সাইকেল চালন সাজিদ মিয়া জানান, সুনামগঞ্জ থেকে যাত্রী শক্তিয়ারখলা বাজার আসা যায় ভাল ভাবে। কিন্তু শক্তিয়ারখলা থেকে মিয়াচর নদী পর্যন্ত সম্পূর্ণ রাস্তা ভাঙ্গা থাকার কারণে যাত্রী পরিবহন করতে বেগ পেতে হয়।
ব্যবসায়ী আলী হোসেনসহ অনেকেই বলেন, পণ্য পরিবহনের গাড়ি চলাচল করতে না পারায় শতশত ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে পণ্য পরিবহনের গাড়ি আসতে পারছে না মিয়ারচর নৌকা ঘাটে। ফলে মালামাল আনতে গেলে খরচের পরিমাণ বেশী হয়। সময়ও বেশী লাগে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদ মিয়া জানান, সড়কটি সংস্কারের জন্য সাংসদ পীর ফজলুর রহমান মিছবাহসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বলেছি। এরপর রাস্তাটি ১ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সংস্কার কাজ অনুমোদন হয়। টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল। কাজও পায় একজন ঠিকাদার। তবে যে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা বর্তমান কাজের খরচের সাথে মিল না থাকায় এখন আবার বরাদ্ধ বাড়িয়ে টেন্ডার দিবে করে দিচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে জনগণের অবস্থা খুবই খারাপ। আমি আগামী প্রশাসনিক সভাগুলোতে এই বিষয়টি সবাইকে অবগত করব। যাতে করে জনদূর্ভোগ লাগবে দ্রæতই রাস্তাটির সংস্কার কাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  •