“নবাবজাদী হলে সমস্যা কি?”

375

কামরুজ্জামান হেলাল, যুক্তরাষ্ট্র:

 

 

::ফারজানা চৌধুরী পাপড়ি ::

বিদেশের মাটিতে কাজ করছি বলে আজও অনেক সুস্থ সবল আছি। অনেক কষ্টের কাজ করেও কাজের জায়গায় বড় বড় পদবির সবাই যখন হাসিমুখে নম্র ভদ্র ভাষায় কথা বলতেন তখন কষ্টের কাজকেও সহজ মনে হতো। প্রথমে তিন বছর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকার সহকর্মী হিসেবে কাজ করি। শিক্ষিকার কাছ থেকে অনেক সাহায্য পেয়েছিলাম, কারণ তখন ইংরেজী কথা খুব একটা বলতে পারতাম না। সেই শিক্ষিকার বদৌলতেই ইংরেজী ভাষার উপর আমার দক্ষতা তৈরি হয়েছিল। আমরা একে অপরকে বুঝতে পারতাম। সম্পর্ক ভাল হলে অনেক কঠিন কাজও সহজ মনে হয়, ঠিক সেই রকম। কিছুদিন পর অন্য একটি সিটিতে কাজ নিয়ে চলে গিয়েছিলাম। তবে ঐ সিটি ভাল না লাগাতে আবার ফিরে এলাম পুরোনো সিটিতে। মূলত: তখন থেকেই শুরু হয়েছিল জীবন যুদ্ধ। গাড়ির কোম্পানিতে কাজ। কাজ কাহাকে বলে কত প্রকার ও কি কি? এর উত্তর তখন থেকেই বুঝতে পেরেছিলাম । আমার আবার একটি সমস্যা ছিল এক জায়গায় বেশীদিন কাজ করতে পারতাম না। বেশী হলে তিন চার বছর। একমাত্র একটিতে করেছিলাম পাঁচ বছর তাও অনেক কষ্ট করে নিজের সাথে যুদ্ধ করে।

এক জায়গায় বেশীদিন কাজ না করার কারণ হলো ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাস বেশীদিন কোন কিছুতে মন বসাতে পারতাম না। এখানে সবগুলো কোম্পানির কাজ একই রকম। হাত পা ভাল হলেই ব্যাস। কারণ একটানা আট ঘন্টা এক জায়গায় দাড়িয়ে কাজ করতে হয়। এজন্য পা ভাল থাকা চাই। ভাল থাকতে হবে হাতও । এই হাত ব্যবহার করে মেশিনের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে হয়। কাজকে কখনো ভয় পাইনি বরং কাজ আমাকে ভয় পেত। কাজে ভাল ছিলাম বলে সুপারভাইজার থেকে শুরু করে ম্যানেজারসহ বড় বড় পদবির সবাই খুব আদর করতো। এরকম দীর্ঘ ১৬ বছর একটানা কাজ করেছি। অনেক কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আজ একটা সুন্দর ও শান্তির পরিবার গড়েছি। সেই যে ২০০১ সালে আমেরিকা এসেছিলাম, আর বাংলাদেশে যাওয়া হয়নি। করোনা ভাইরাস একটু স্বাভাবিক মাত্রায় আসলে দীর্ঘ ১৯ বছর পর আমার বাংলা মায়ের কোলে যাবো চিন্তা করছি। এত বছর পড়ে যাবো কতই-না স্বপ্ন দেখছি, বাংলা মাকে ঘিরে।নবাবজাদীর মতো আরাম-আয়েশ করবো। বিদেশে কোন কিছুর অভাব নেই, তারপরও আমার বাংলা মায়ের সাথে তুলনা করতে পারিনা। এত কষ্ট করেছি জীবনে এখন আমার বাংলা মায়ের কোলে গিয়ে যদি নবাবজাদী হয়ে যাই তাতে সমস্যা কি?

  •