লাউয়াছড়া উদ্যানসংলগ্ন বনে ‘পরিকল্পিত আগুন’

9

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন বন দখলের জন্য পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন বন বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তা। তার বলছেন, জায়গাটি দখল করতেই আগুন লাগানো হয়েছে। আর আগুনে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ না হলেও লতা-গুল্মজাতীয় গাছ গাছালিসহ জীব, বন্য শুকুরের বাচ্চা পুড়ে মরাসহ জীব বৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় বন বিভাগ।
এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় লাউয়াছড়ার পাশের বনে আগুন লাগে। পরে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। আগুন লাগার পরপরই সিলেটভয়েস ডটকমসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদন দেখে বন পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন সরেজমিন তদন্ত করার মৌখিক নির্দেশনা দেন। এই নির্দেশনা দেয়ার পরপরই তদন্ত শুরু করে বন বিভাগ।
গত বুধবার দুপুরে সরেজমিনে বেসরকারি সংস্থা হীড বাংলাদেশের পিছনের বনে গিয়ে দেখা যায়, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন, লাউয়াছড়া বনবিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল তদন্ত করছেন। এসময় ঘটনাস্থলের প্রায় ৩ একর এলাকা জুড়ে ধোঁয়া উড়ছিল।
বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে না আনলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ছড়িয়ে পড়ত। পুড়া এলাকায় ব্যাপকভাবে বাঁশ, লতা ও গুল্ম জাতীয় ছোট আকারের গাছ গাছালি পুড়ে গেছে। তাছাড়া অনেক জীব বৈচিত্র্য বিনষ্ট হয়েছে। এ এলাকা অনেক বন্য শুকুরের বাচ্চাদের বিচরণ ছিল। পুড়া গন্ধে ধারণা করা যাচ্ছে আগুনে কিছু বন্য শুকরের বাচ্চা পুড়ে মরেছে।
ঘটনাস্থলের ভূমির মালিকানা সম্পর্কে বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১৯৭৫ সাল থেকে এখানে হীড বাংলাদেশ অবস্থান করছে। এখানে মোট ১৮৯ একর জমির পরিমাপ নিয়ে জটিলতা রয়েছে। এ সুযোগে স্থানীয় একটি মহল বেশ কিছু জমি দখল নিয়ে লেবু বাগান ও মৎস্য খামার গড়ে তুলেছে। এ সুযোগে একটি মহল মঙ্গলবার পরিকল্পিতভাবে এখানে আগুন লাগিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
হীড বাংলাদেশ কমলগঞ্জের লিয়াজো অফিসার নুরে আলম সিদ্দিক বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তারা এ জমির বন্দোবস্তু নিয়ে তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র এ সংস্থার ভূমি দখলের পায়তারা করছে। কিছু ভূমিতে বসতঘরও নির্মাণ শুরু করেছে। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ উপজেলা প্রশাসনে অবহিত করা হয়েছে। তিনিও মনে করেন এই চক্রটি আগুন লাগিয়েছে। তবে পুড়ে যাওয়া অংশটি বনবিভাগের বলে তিনি জানান। এসব ভূমি যৌথভাবে জরিপ করে দেখার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, এখানকার ১৮৯ একর ভূমির মাঝে মাত্র ৭৫ একর ভূমির সঠিক কাগজপত্র আছে। বাকী ভূমির কাগজপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। এ সুযোগেই ভূমি দখলে ভূমিদস্যুরা গত মঙ্গলবার পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগাতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে শীঘ্রই কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন চৌধুরীকে প্রধান করে উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, বন বিভাগ ও হীড বাংলাদেশ মিলে যৌথভাবে জরিপ করে দখলকৃত জমি উদ্ধার করবে। তাছাড়া তদন্তকালে আগুন লাগানোর সঠিক প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নির্বাহী কর্মকর্তা জানান।

  •