হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে বিয়ে কুলাউড়ায় ২ বরকে ২০ টাকা জরিমানা

8

কুলাউড়া প্রতিনিধি
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কোয়ারেন্টাইন লঙ্ঘনের অপরাধে কুলাউড়ায় দুই প্রবাসীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার দুই ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা ও মৌখিকভাবে সর্তক করেন নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এটি এম ফরহাদ চৌধুরী।
উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের চকের গ্রামের মৃত মাস্টার হাবিবুর রহমানের পুত্র ওমান প্রবাসী জিয়াউর রহমান জিয়া গত ১৫ মার্চ দেশে ফিরেন। বাড়িতে ফিরলে উপজেলা প্রশাসন থেকে তাকে ফোন দিয়ে ১৪ দিনের জন্য নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু জিয়া তা অমান্য করে চুপিসারে ভাটেরা ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামে এক মেয়ের সাথে বিয়ের তারিখ ঠিক করেন। গত বৃহস্পতিবার বার দুপুরে তার আকদ অনুষ্ঠানে উভয় পরিবারের আত্মীয়স্বজন উপস্থিত হন। খবর পেয়ে ইউএনওর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সরেজমিন বরের বাড়িতে উপস্থিত হলে কিছু লোক পেছন দিয়ে দেওয়াল টপকে পালিয়ে যায়। এরপর হোম কোয়ারেন্টাইন আদেশ না মানায় বরকে নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ১৪ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বিয়ের অনুষ্ঠান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বর জিয়াউর রহমান জিয়া এর আগে আরেকটি বিয়ে করলে তার আগের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে।
এদিকে উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়ের ছকাপন গ্রামের আনসার আলীর পুত্র রিয়াজ উদ্দিন দুবাই থেকে গত ৬ মার্চ দেশে ফিরেন। তাকেও উপজেলা প্রশাসন থেকে ফোন দিয়ে ১৪ দিনের জন্য নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু রিয়াজ উদ্দিন সেই আইন অমান্য করে পাশ্ববর্তী ভুকশিমইল ইউনিয়নের শশারকান্দি গ্রামের এক মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক করেন। গত বৃহস্পতিবার ছিলো তাদের বিয়ের দিন। ওইদিন একটি কমিউনিটি সেন্টারে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিয়ের আসরে বরকে নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় বিয়ে ভঙ্গ বা স্থগিত করা যায় নি।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এটি এম ফরহাদ চৌধুরী জানান, করোনা ভাইরাস আক্রান্তে সারা বিশ্বে এখন ভয়াবহতা আকার ধারন করেছে অতোছো প্রবাস ফেরত অনেকে দেশে এসে তা মানছেন না। বর্তমানে যারা প্রবাস থেকে দেশে ফিরবে তারা সবাই ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন আইন মেনে চলতে হবে। আর যারা তা মানবে না ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আমরা তাদেরকে শাস্তির আওয়তায় আনব। ভাইরাসের সংক্রমন যতদিন কমছে না, ততদিন এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  •