ইউএনওর শিক্ষা উপকরণে আলোর দিশা পেল দরিদ্র শিক্ষার্থী

5

কানাইঘাট প্রতিনিধি
লেখাপড়া করে মানুষের মত মানুষ হতে চায়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়, সমাজের সেবা করতে চায়। কিন্তু পারে না? দরিদ্রতাই যেন তার কাল। অসহায় পরিবারের মেয়ে হলেও মেধার যেন অন্ত নেই তার। সামান্য লেখাপড়ার খরচ যেন তার বৃদ্ধ মায়ের কাছে পাহাড়সম বোঝা। বই আর বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোষাকের অভাবে তার লেখাপড়া প্রায় বন্ধের পথে। সে কানাইঘাট পৌরসভাস্থ রামিজা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থী। যার ক্লাশ রোল-১। মেধার খবর পেয়েই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খান তার বিভিন্ন প্রশিক্ষণের যাতায়াতের টাকা হতে দরিদ্র ঐ মেধাবী শিক্ষার্থীর যাবতীয় সকল বই ও বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোষাকের ব্যবস্থা করেন। পরে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ওই মেধাবী শিক্ষার্থী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হয়ে এসব শিক্ষা উপকরণ গ্রহণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী, সাতবাঁক ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানসহ মেধাবী শিক্ষার্থীর মা।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খান মেধাবী ঐ শিক্ষার্থীর মাকে বিভিন্ন উপদেশ দিয়ে বলেন, কোন অবস্থায় যেন ঐ মেধাবী শিক্ষার্থীকে বাল্য বিয়ে না দেওয়া হয়। এতে ঐ শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার জন্য তার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এদিকে শিক্ষা উপকরণ পেয়ে দরিদ্র ঐ শিক্ষার্থী জানায় ইউএনও স্যারের এসব উপকরণে সে যেন আলোর দিশা পেয়েছে। কারণ বই এবং স্কুল ড্রেসের অভাবে তার লেখাপড়া প্রায় বন্ধ ছিল। এসব শিক্ষা উপকরণ পেয়ে সে অনেক খুশি হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম জানান, এটা কেবল মাত্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান। যাতে দেশের ঐসব দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা ঝরে না পড়ে। তাদের প্রতি খেয়াল রাখার জন্য তিনি সমাজের সকলের প্রতি আহবান জানান। উল্লেখ্য এর পূর্বেও তিনি বেশ কয়েকজন দরিদ্র শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দিয়েছেন।

  •