সিলেটে দুদিন আকাশ ছুঁয়ে নামছে নিত্যপণ্যের বাজার

23

সবুজ সিলেট ডেস্ক :
অসাধু ব্যবসায়ীরা করোনাভাইরাসের অজুহাতে পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। বৃহস্পতি ও শুক্রবার নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ছিল আকাশচুম্বী। এ অবস্থায় দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে কঠোর অবস্থান নেয় স্থানীয় প্রশাসন। শুরু হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। অবশেষে দু’দিন আকাশ ছুঁয়ে নামছে সিলেটে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার।

রোববার (২২ মার্চ) সিলেটের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কালিঘাটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল, পেঁয়াজ, ভোজ্য তেলসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম কমেছে।

সিলেটের বন্দরবাজারে ভোগ্যপণ্যে ক্রয় করতে আসা রায়হান উদ্দিন বলেন, দেশে কিছু কিছু পণ্যের মজুদ চাহিদার চেয়ে বেশি। এরপরও বাজারে প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তবে এই কয়েকদিনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। গত ২দিন আগে যে চাউল ৪৫ টাকা দিয়ে ক্রয় করতে হয়েছে, তা আজ ৩৯ টাকায় কিনলাম। যে পেঁয়াজ ছিল ৯০ টাকা, সেই পেঁয়াজ এখন ৪০ থেকে ৫৫ টাকা।

তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করার প্রধান কারণ অসৎ মিল মালিক, আড়তদার ও আমদানিকারকরা। নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে মিল মালিক থেকে পাইকারি বিক্রেতারা নিজেদের মধ্যে নিত্যপণ্যের বারবার হাত বদল করেন। এ ছাড়া কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে কিছু পণ্যের মজুদ করার অপচেষ্টা চালানো হয়।

এদিকে দুই দিনের ব্যবধানে কেজিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে ৩০-৪০ টাকা করে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশি পেঁয়াজ পাইকারিতে ৩৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া আমদানিকৃত পেঁয়াজ আজ ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

কালিঘাটের ব্যবসায়ী ফয়ছল আহমদ বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার দেশি পেঁয়াজ পাইকারিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় কেজি বিক্রি হয়েছে। আর আমদানিকৃত পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৯০ টাকায় বিক্রি হয়। একদিনের ব্যবধানে কেজিতে দেশি পেঁয়াজের দাম প্রায় ৩৫ টাকা এবং বিদেশি পেঁয়াজ প্রায় ২৫ টাকা কমেছে।’

তিনি বলেন, ‘সিলেটে চাল, পেঁয়াজ, ভোজ্য তেলসহ নিত্যপণ্যের কোনো সংকট নেই। প্রতিদিনই প্রচুর পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্য আসছে বাজারে। তাই দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই।’

এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব বলেন, সিলেটের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা করোনাভাইরাসের অজুহাতে চাল, পেঁয়াজ, ভোজ্য তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দাম কমতে শুরু করেছে। জেলা প্রশাসন ও চেম্বারের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং এর জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  •