সুনামগঞ্জের ফার্মেসিগুলোতে নেই নাপা, টোফেন!

7

 

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জে ওষুধের দোকানগুলোতে নেই জরুরী ওষুধ। একদিকে করোনাভাইরাস ভীতি ও অন্যদিকে আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত সর্দি, জ্বর, কাশি দেখা দেওয়ায় সুনামগঞ্জে ফার্মেসিগুলো হিমশিম গ্রাহককে ওষুধ দিতে। যার কারণে সুনামগঞ্জের ফার্মেসিগুলোতে নেই নাপা ট্যাবলেট, নাপা সিরাপ, টোফেন, এইচ সিরাপসহ প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ নেই বললেই চলে।

সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকা ও সদর হাসপাতাল এলাকার ফার্মেসীগুলো ঘুরে দেখা যায়, ফার্মেসিগুলোতে অন্যান্য ওষুধ কম বেশি থাকলেও নেই জ্বর, সর্দি, কাশির ওষুধ। সাধারণ মাথা ব্যথা বা জ¦রের ওষুধ নাপা ট্যাবলেটও নেই। তাছাড়া শিশুদের জ্বরে ব্যবহার করা নাপা সিরাপ ও সর্দি-কাশিতে ব্যবহার হাওয়া টোফেন সিরাপসহ বড়দের নাপা এইস, নাপা এক্সটেন্ড ও নাপা এক্সট্রাসহ এরকম ওষুধ ফার্মেসিগুলোতে নেই বললেই চলে।

আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ায় শিশুরা রোগ আক্রান্ত বেশি হওয়া প্রতিনিয়ত ফার্মেসিগুলো ভিড় করছেন সাধারণ মানুষজন। তাছাড়া প্রাইভেট চেম্বারে ডাক্তার আপাতত রোগী না দেখায় পরিচিত ওষুধ ব্যবহার করে রোগমুক্তির জন্য এ সকল ওষুধের প্রয়োজন পড়ে। তবে এখন ফার্মেসিতে এই ওষুধগুলো না থাকায় বিপাকে পড়েছেন অনেকে। তাছাড়া হাতেগোনা কয়েকটি ফার্মেসিতে কিছু ওষুধ থাকলেও সেগুলো বেশি জরুরী ছাড়া কাউকে দিচ্ছেন না ফার্মেসির কর্মীরা।

বাচ্চার জ্বর হওয়া ওষুধ নিতে আসা উসমান আহমেদ বলেন, বাচ্চাটার জ্বর হয়েছে কিন্তু নাপা সিরাপ পাচ্ছি না। প্রায় ৪ টা ফার্মেসী ঘুরে আসলাম নেই। নাপা ট্যাবলেট খোঁজলাম সেটিও নেই। করোনাভাইরাসের কারণে নাকি ওষুধের উপাদান বাহির থেকে আনতে পারছে না। এখন আমরা কোন দিকে যাবো।

শহরের জেসি ফার্মেসীর ম্যানেজার কবির আহমদ বলেন, আমরা মানুষদের নিত্য প্রয়োজনীয় ওষুধগুলো দিতে পারছি না। যার মধ্যে বাচ্চাদের নাপা সিরাপ, টোফেন সিরাপ বাজারে নেই। ওষুধ কোম্পানির গাড়ি আসলেও এগুলো তাদের কাছে না থাকায় আমাদেরও দিতে পারছে না। তাই আমাদের গ্রাহকদের খালি হাতেই ফিরাতে হচ্ছে।

নিলু ফার্মেসির ম্যানেজার হেলাল খান বলেন, আমাদের বাচ্চাদের জ্বর সর্দি কাশির ওষুধ নেই। তার মধ্যে নেই নরমাল নাপা, নাপা এক্সেটেন্ড, নাপা এইস ইত্যাদি। মানুষজন এগুলোই এখন বেশি খোঁজে এসে কিন্তু এগুলো আমরা দিতে পারি না। আশা করি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই সব আগের মতো হয়ে যাবে।

প্রীতম ড্রাগ হাউজের মালিক রূপম দাশ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ওষুধের কিছুটা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যার মধ্যে প্যারাসিটেমল জাতীয় ওষুধটাই বেশি। ওষুধ কোম্পানির সাথে কথা বলে জানতে পারলাম বিদেশ থেকে পণ্য আসা বন্ধ থাকায় বিভিন্ন ওষুধের উপাদান আসা বন্ধ রয়েছে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আবার আগের মতো হয়ে যাবেও বলে জানান তিনি।

জেসি ফার্মেসির মালিক সৈয়দ শফিক আলী বলেন, প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ এখন বাজারে নেই। প্রতিনিয়ত শত শত মানুষ নাপা, নাপা এইস ইত্যাদি চাচ্ছেন কিন্তু আমরা দিতে পারছি না। করোনাভাইরাস ও আবহাওয়ার পরিবর্তন একসাথে হওয়ায় এই ক্ষণিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ রয়েছে বলে সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে আমাদের ওষুধ রয়েছে। কোন রোগী যদি জ্বর সর্দি কাশি হয় তাহলে তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা প্রদান করা হবে। তাছাড়া সকল উপজেলায়ও সরকারি ওষুধগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে।

 

 

 

  •