করোনা: দুই চিকিৎসক  আক্রান্তদের চিকিৎসা দিয়েছিলেন

6

 

সবুজ সিলেট ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাসজনিত কভিড-১৯ রোগে আরও দুই চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা শুক্রবার নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন।

ডা. ফ্লোরা জানান, আক্রান্ত দুই চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছিলেন।

এ সময় তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নতুন চারজনের দেহে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের নিয়ে আক্রান্ত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ জনে। চারজন বয়সের বিভাজনে ২০-৩০ বছর বয়সের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে একজন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে একজন এবং ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে একজন। এই চারজনের মধ্যে দুজন চিকিৎসক রয়েছেন। তারা করোনায় আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছিলেন।’

তিনি জানান, এই চারজনের দুজন ঢাকার বাইরে, আর দুজন ঢাকার মধ্যেই রয়েছেন। তাদের দুজনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে। তবে তারা সুস্থ। তাদের মধ্যে কোনো রকম জটিলতা নেই। এর আগে যারা করোনায় আক্রান্ত তাদের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে।

আর এই চারজনের মধ্যে একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে আক্রান্তদের একটি ‘ক্লাস্টার’ থেকে; তবে সেখানে প্রথম সংক্রমণ কোথা থেকে এসেছিল তা নিশ্চিত হতে পারেনি বলে জানান আইইডিসিআর পরিচালক।

সর্বমোট ১ হাজার ২৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বলেও জানান এই চিকিৎসক।

আমাদের সবসময় খেয়াল রাখতে হবে, যারা রোগীর সংস্পর্শে যান, তাদের মধ্যে চিকিৎসকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। সে জন্য চিকিৎসকরা যখন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, চিকিৎসক কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীদের অতিরিক্ত সাবধানতা আমরা তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করি।

অধ্যাপক সেব্রিনা আরও বলেন, আমাদের সীমিত আকারে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন রয়েছে, যদিও এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। যখনই কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হতে পারে বলে মনে হয়েছে, আমরা সেই এলাকাটাকে আলাদা করে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে সেখানে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।

‘সেখানে আমরা সক্রিয়ভাবে রোগী খুঁজছি। আমরা প্রতিদিন তথ্য সংগ্রহ করি, সেখানে নতুন উপসর্গ রয়েছি কিনা, অথবা আক্রান্ত রোগী যারা আছেন, তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন, তাদের নতুন উপসর্গ না থাকলেও তাদের নমুনা সংগ্রহ করে আমরা পরীক্ষা করছি।’

করোনায় সতর্কতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক সেব্রিনা বলেন, আমাদের সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণের আজকের দ্বিতীয় দিন চলছে। এ পর্যন্ত আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের আদেশ-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে জনস্বার্থে যে আদেশ ও নির্দেশনা দেয়া হয়, সেগুলো আপনারা অবশ্যই মেনে চলবেন। জনগণের ভালোর জন্য, জনগণের সুস্থতা-স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে সরকারি পদক্ষেপগুলো নিয়েছি। অবশ্যই ঘরের বাইরে যাবেন না, ঘরের ভেতরে থাকবেন। ঘরের ভেতরে থেকে যে বিষয়গুলো চর্চা ও পরিচর্যা করতে বলে থাকি, সেগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

 

  •