সিলেটে ভালো নেই পরিবহন শ্রমিকরা

59

সবুজ সিলেট ডেস্ক
বিশ্ব থমকে দেয়া করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটেও বন্ধ রয়েছে সব ধরণের গণপরিবহন। গত বৃহস্পতিবার থেকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে চলছে না দূরপাল্লার যান। সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাচ্ছে না আঞ্চলিক সড়কগুলোর কোনো বাসও। এছাড়াও পণ্যবাহী ট্রাক, মিনিট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং পিকআপও বন্ধ রয়েছে সিলেটে।
আজ রবিবার (২৯ মার্চ) সিলেটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, কুমারগাঁও বাস স্ট্যান্ড ও নগরের লেগুনা স্ট্যান্ডগুলো ঘুরে দেখা গেছে- স্ট্যান্ডগুলোতে বিরাজ করছে সুনসান নিরবতা। নেই কোনো ভিড়, নেই গাড়ির ইঞ্জিন আর হর্নের শব্দ, পরিবহণ শ্রমিকদের তোড়জোড়-আড্ডা কিছুই নেই। স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি গাড়ি, তবে সড়ক-স্ট্যান্ড সব জায়গা আজ জনমানবশূন্য-ফাঁকা।
সিলেটের বেশ কয়েকজন পরিবহন শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- দিনমজুর শ্রেণির এই মানুষগুলোর জীবিকা আসে প্রতিদিনের কাজের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু সে আয়ের পথ এখন বন্ধ। এমন অবস্থায় সিলেটে পরিবহন বিভাগের ‘দিন আনে দিন খায়’ শ্রমিকরা আছেন বিপাকে। কষ্টে কাটছে তাদের দিন। এভাবে আরো কিছুদিন চললে চোখে সর্ষেফুল দেখবেন বলে তাদের মন্তব্য।
প্রায় আট মাস আগে সিলেট-শ্রীমঙ্গল সড়কে পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন দক্ষিণ সুরমার সোহেল। কাজ নেন কনট্রাক্টর (বাসের ভাড়া আদায়কারী) হিসেবে। এমন কাজে প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচ শ টাকা পর্যন্ত আয় হতো তার। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে সে আয় বন্ধ।
সোহেল এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘গণপরিবহন বন্ধের সরকারি নির্দেশ আসার পর গত বুধবার (২৫ মার্চ) ঋণ করে ৪-৫ দিনের মতো বাজার খরচ করে দিয়েছিলাম পরিবারে। আজ থেকে ঘরে আর কিছু থাকবে না। কাল থেকে কী হবে আমার জানা নেই।’
সিলেট-জগন্নাথপুর রোডের বাস চালক সফিক মিয়া বলেন, ‘কী করোনা আইছেরে ভাই! আমরার পেটও লাত্থি মারছে। এখন আমরা চলতাম কেমনে? কেউ কিতা আইয়া আমরারে দুই দিনর বাজার খরচ দিবো নি?’
সিলেট-তামাবিল রোডের লেগুনা চালক নেছার আহমদ বলেন, ‘গাড়ি বন্ধ করা হয়েছে ঠিক আছে। কেউ অসুস্থ হোক এইটা আমিও চাই না। আমি নিজেও অসুস্থ হইতে চাই না। কিন্তু সরকারের উচিত ছিলো আমাদের কথাটা একটু ভাবা। আমরা কীভাবে চলবো এইটা একটু ভাবতে পারত। আমরা পরিবহন শ্রমিকরা প্রতিদিন যে টাকা ইনকাম (আয়) করি, তা তো প্রতিদিনই খরচ করে ফেলি, জমানোর তো সুযোগ নাই। জমানো টাকা থাকলে এক কথা ছিলো- পনের দিন না হয় এক মাস বসে বসে খাইতে পারতাম। কিন্তু এখন আমাদের কী অবস্থা হবে তা কি কেউ ভাবছে?’
আলাপকালে কয়েকজন পরিবহণ শ্রমিক আক্ষেপ করে বলেন, গবির বা দরিদ্র্য মানুষজন তো আরেকজনের কাছে গিয়ে হাত পাততে পারবে। কিন্তু আমরা তো সেটা করতে পারবো না, আত্মসম্মানবোধে লাগবে। তাই আমরা গরিবের চাইতেও বেশি বিপাকে।
এদিকে, গণপরিবহন শ্রমিকদের উপর পরিবহন বন্ধের প্রভাব পড়লেও ভারমুক্ত প্রাইভেট গাড়ি চালকরা। কারণ- তারা মাসিক বেতনে চাকরি করেন। ফলে গণপরিবহণ বন্ধ থাকলেও তাতে তাদের কোনো সমস্যা নেই।

  •