সিলেটে লেনদেনে বাড়ছে করোনার ঝুঁকি

7


স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ। সব মিলিয়ে করোনা প্রতিরোধে যত ধরণের সচেতনতা প্রয়োজন তার কোন অংশে কম নেই। কিন্তু সকল রকম সতর্কতা থাকলেও সিলেটে আর্থিক লেনদেনের কারণে করোনার ঝুঁকি মারাত্মক হারে বাড়ছে। গ্লাভস ব্যবহার না করায় করোনা সংক্রমণের শঙ্কা রয়েছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। টাকা কোন মানুষের কাছে স্থায়ী না হওয়ায় ছোঁয়াচে এ মহামারী দ্রুত সমের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সিলেটের এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় ‘লেনদেনে করোনার ঝুঁকি’ সম্পর্কে বলেন, ‘টাকার কোন অবস্থায় স্থায়ী নয়। এটি এক হাত থেকে সব সময় অন্য হাতে যায়। তাই আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে খুব দ্রুত করোনা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থাকে। তাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংককে নতুন টাকা তৈরির জন্য একটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে অনেকাংশে এ ঝুঁকি কমতো।’
করোনার হাত থেকে রক্ষা পেতে একে অপর থেকে কম পক্ষে ৩ ফুট দূরে থাকা এমনকি হাত না মিলাতেও নিষেধ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একে ওপরের কাছাকাছি গেলে কিংবা হাত মিলালে প্রাণঘাতী করোনা একজনের শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়াতে পারে। কিন্তু সকল রকম সচেতনতা থাকলেও আর্থিক লেনদেন দুইজনকে খুব নিকটে করে ফেলে। হাত না মিলালেও এক হাতের টাকা অন্য হাতে গিয়ে বিস্তার করতে পারে করোনা। তবু সিলেটের অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করছেন না গ্লাভস।
সোমবার সরেজমিনে সিলেটের অধিকাংশ জায়গায় ঘুরে দেখা গেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানপাট খোলা থাকলেও এসব দোকানের ব্যবসায়ীরা আর্থিক লেনদেনে গ্লাভস ব্যবহার করছেন না। মুখে মাস্ক ব্যবহার করলেও হাতে কোন ধরণের গ্লাভস নেই। গুটিকয়েক ব্যবসায়ী গ্লাভস ব্যবহার করলেও অধিকাংশ সময়ই তা খুলে রাখছেন।
কথা হয় আম্বরখানা বাজারে ফ্লেক্সিলোডের দোকানের ব্যবসায়ী কাওসার আহমদের সাথে। তিনি বলেন, ‘গ্লাভস ব্যবহার করলে গরম লাগে। তাই কিছু সময় গ্লাভস ব্যবহারের পর খুলে রেখে দেই। তাছাড়া সার্জিক্যাল গ্লাভস ব্যবহার করলে দেখা যায় টাকার ময়লায় নোংরা হয়ে যায়। অর্ধেক দিন যেতে না যেতেই সাদা গ্লাভস ময়লায় কালো হয়ে যায়। দেখতে খারাপ লাগে।’
তবে ব্যবসায়ীদের কাছে গ্লাভস বিরক্ত লাগলেও এটি অত্যাবশ্যকীয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে টাকায় প্রচুর পরিমাণ জীবাণু থাকায় ব্যবসায়ীরা নিজে সুস্থ থাকতে অবশ্যই গ্লাভস ব্যবহার করা উচিৎ। আর হাতে থাকা জীবাণু থেকে খাদ্যসামগ্রীকে নিরাপদ রাখতে সেলসম্যানদেরকেও গ্লাভস পরা জরুরী বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘আর্থিক লেনদেন ছাড়া মানুষ চলতে পারে না। তাই যত কঠিন সময়ই আসুক লেনদেন করতে হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অবশ্যই খুব সচেতনভাবে করতে হবে। অপ্রয়োজনে টাকা নাড়াচাড়া করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং টাকার জন্য আলাদা একটি ওয়ালেট রাখা, টাকা লেনদেনে গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে। টাকা নাড়াচাড়া করার পর কিংবা লেনদেনের পর অবশই সাবান দিয়ে হাত ধোয়ে নিতে হবে। কারণ যে টাকা আমি হাত দিয়ে স্পর্শ করছি তা নিশ্চয় আমার হাতের স্পর্শই প্রথম স্পর্শ নয়। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা গ্লাভস ব্যবহার করা আবশ্যক বলা যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘কেবল করোনা থেকে বাঁচতে নয়। টাকা যেহেতু নানা হাত স্পর্শ করে সুতরাং টাকা হাত দিয়ে স্পর্শ করে নাক, মুখ, চোখে হাত দেয়া কিংবা কোন কিছু খাওয়ার আগে ভালো করে হাত ধোয়ে নেয়া উচিৎ। কারণ টাকায় অনেক জীবাণু থাকে।’

  •