কোম্পানীগঞ্জে মার খেয়েও মামলা করেনি পুলিশ

6


কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই ইয়াকুব হোসেন দায়িত্ব পালনের সময় মার খেয়েও মামলা করেননি। এমনকি থানায় করেননি কোন জিডিও। আর থানার ওসি সজল কুমার কানু মার খাওয়ার কোন ঘটনাই ঘটেনি বলে দাবি করছেন।
অথচ স্থানীয়রা বলছেন, শনিবার (২৮ মার্চ) রাত ১১ টার দিকে উপজেলা শাহ আরেফিন টিলার প্রবেশ মুখে স্থানীয় আঞ্জু ও তার ছেলেদের হাতে মার খেয়েছেন পুলিশের এ এসআই। তবে অভিযোগ উঠেছে পুলিশ বিষয়টি টাকার বিনিময়ে সমাধান করে ফেলেছে।
থানার ওসি সজল কুমার কানু বিষয়টি অস্বীকার করলেও কোম্পানীগঞ্জ থানার আরেক এসআই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি বারবার ইয়াকুবকে জিজ্ঞেস করেছি। সাক্ষাতে আবার ফোনেও তাকে জিজ্ঞাস করেছি টাকার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে কি না। সে বারবার এড়িয়ে গেছে। একই সাথে টাকার বিনিময়ে সমাধানের বিষয়টি অস্বীকার করছে। তবে মার খাওয়ার ঘটনার কি হলো জানতে চাইলে ইয়াকুব কিছু বলেনি।’
এ পুলিশ সদস্য আরও বলেন, ‘আজ (রোববার) আঞ্জুর ছেলের সাথেও দেখা হয়েছে। তারে জিজ্ঞেস করলাম সেও কিছু বলতে পারেনি। সে অবশ্য ঘটনার পরে গেছে। ঘটনা ঘটাইছে তিন নাম্বারটায় শাহরিয়ার।’
পুলিশ পিস্তল বের করে গুলি করতে চাইছিল মনে হয় এমন কথার প্রেক্ষিতে থানার এ এসআই বলেন, ‘এরকম না। তবে মোটরসাইকেল ভেঙ্গে ফেলেছে। গ্লাসসহ যা আছে পানসার-উনসার (চাকার বাসাত ছেড়ে) কইরা দিছে। কালকে আসার পরে রাত ১২ টার দিকে আমি জানি। ঘটনা হইছে ১০ টা সাড়ে ১০ টার দিকে। আর ১১ টার দিকে ঘটনা মিটমাট হয়েছে।’
আর স্থানীয়রা জানান, আঞ্জুর ছেলে শাহরিয়ার মাতাল অবস্থায় মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল। এসময় তার সামনে পুলিশের এক সিএনজি ছিল। সে গাড়িটি ওভারটেক করার জন্য বারবার হর্ণ দিচ্ছিল। এসময় পুলিশের সদস্য তার মোটরসাইকেলের বাতাস ছেড়ে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহরিয়ার তার বাবা আঞ্জু যিনি ডন নামেই পরিচিত তাকেসহ কয়েকজনকে ডেকে আনে। পরে তারা এসে পুলিশের উপর চড়াও হয়। এসময় তারা পুলিশকে কিল ঘুষি মারতে শুরু করে। এক পর্যায়ে পুলিশের এসআই ইয়াকুব গুলি করার ভয় দেখায়। তখন আঞ্জুর লোকজন বলে তোদের কিলঘুষি দিলে হবে না, তোদের রামদা দিয়ে কুপাতে হবে।
সিলেট জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। এইটা মনে হয় গাড়ি আছে না, মোটরসাইকেলের বাতাস ছেড়ে দিয়েছিল। আঞ্জুর পোলাপানের মোটরসাইকেলের বাসাত ছেড়ে দেয়া নিয়ে ঠেলাঠেলি হয়। এছাড়া ডাকাত, ডাকাত চিৎকার করে এ ঘটনাই ঘটেছে। এটা খারাপ করেছে। আর এসআই ইয়াকুব হোসেন মনে হয় আঞ্জুর মানুষ সবাইকে চিনে না। এজন্য মনে হয় শাহরিয়ারের সাথে লেগে গেছে।’
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) লুৎফুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছি।’
আর সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন পিপিএম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। তবে আমি ঘটনা জানার চেষ্টা করছি।’

  •